ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে দেশটিতে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ সময় মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি তাদের জোরপূর্বক দেশ ছাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক মানবাধিকার সংগঠন ‘সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন’ পরিচালিত ‘ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার’–এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই আশঙ্কাজনক চিত্র।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিন মাসে সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত ২৫ জনের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। বাকি ১০ জনকে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ও পিটিয়ে হত্যা বা মব লিঞ্চিংয়ে জড়িত উগ্রবাদীরা। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ বছরের এক শিশু এবং ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছে।
এই নিয়ে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ভারতে ঘৃণাজনিত সহিংসতায় মোট ৪৪ জন মুসলিম নিহত হলেন। এর মধ্যে ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বা হেফাজতে এবং ২৫ জন উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হামলায় মারা গেছেন।
সংস্থাটি জানায়, উত্তর প্রদেশ, আসাম, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পশ্চিমবঙ্গে ভুয়া পুলিশি বন্দুকযুদ্ধ, হেফাজতে নির্যাতন ও উচ্ছেদ অভিযান আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। দেশের ছয়টি রাজ্যে দুই মাসেরও কম সময়ে অন্তত ২৩টি মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ২১টি উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজারের বেশি মুসলিম পরিবার নিজেদের বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থান হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ও মুসলিম মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে আসামে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে পুশব্যাক বা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বিতাড়ন প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক নেতাদের ক্রমাগত মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ও উসকানিমূলক বক্তব্য এই সহিংস পরিস্থিতিকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শীর্ষনিউজ