ঘরের মাঠে ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ! সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক ‘হোয়াইটওয়াশ’ বা ধবলধোলাই সম্পন্ন করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এমন একচেটিয়া আধিপত্য আগে কখনো দেখায়নি টাইগাররা।
৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম ও শেষ দিনেও দারুণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল পাকিস্তান। বিশেষ করে মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সাজিদ খানের লড়াকু জুটি এক পর্যায়ে বাংলাদেশ শিবিরের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দিনের শুরুতে দ্রুতগতিতে রান তুলে তারা ম্যাচে রীতিমতো উত্তেজনা ফিরিয়ে এনেছিলেন। তবে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টিকতে দেননি টাইগার বোলাররা।
সাজিদের বিদায়: বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সাজিদ খানকে ফিরিয়ে প্রথম স্বস্তি এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজিদ সাজঘরে ফেরেন।
রিজওয়ানের আক্ষেপ: সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি গিয়েও হতাশ হতে হয় মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। ৯৪ রানের মাথায় পেসার শরিফুল ইসলামের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরলে পাকিস্তানের আশার প্রদীপ নিভে যায়।
শেষ পেরেক: ৯৮তম ওভারে খুররম শাহজাদকে আউট করার মধ্য দিয়ে ৩৫৯ রানে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস পুরোপুরি গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। আর তাতেই নিশ্চিত হয় ৭৮ রানের এক অবিস্মরণীয় জয়।
বোলিং তোপ: বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সিলেট টেস্টের মূল নায়ক ছিলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। পুরো সিরিজজুড়ে তার পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজ ও শরিফুল ইসলামদের ধারাবাহিক সাফল্য পাকিস্তানকে সারাক্ষণ চাপে রেখেছে।
ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা: ব্যাট হাতে এই সিরিজে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। তাদের নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং দলের ভিত মজবুত করেছে।
এই অবিস্মরণীয় সিরিজ জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে এত টানা জয় পায়নি টাইগাররা।
ব্যাটিং, বোলিং এবং মানসিক দৃঢ়তা—সব বিভাগেই পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। ঘরের মাঠে এই ঐতিহাসিক ধবলধোলাই এখন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন এক সোনালি অধ্যায় হয়ে রইল।