যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন তাদের অস্ত্রভাণ্ডার “অফুরান”, অন্যদিকে ইরান দাবি করছে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ওয়াশিংটনের ধারণার চেয়েও বেশি। কিন্তু রণক্ষেত্রের বাস্তব তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। দুই পক্ষই যে হারে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করছে, সেই হারে নতুন উৎপাদন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) তথ্যমতে, ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার: প্রথম দিনের তুলনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার প্রায় ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।
ড্রোন আক্রমণ: বিখ্যাত শাহেদ ড্রোনের ব্যবহারও প্রায় ৭৩ শতাংশ কমেছে।
কারণ: এর দুটি কারণ হতে পারে। প্রথমত, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের উৎপাদন কারখানা ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরান তাদের অবশিষ্ট মজুত ধরে রাখার কৌশল নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে দামি অস্ত্রগুলোর মজুত বাঁচাতে যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করেছে।
টমাহক থেকে জেডিএএম (JDAM): শুরুতে অনেক দূর থেকে টমাহকের মতো দামী ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করলেও, এখন মার্কিন বিমানবাহিনী সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর ওপর সস্তা ‘জেডিএএম’ বোমা ফেলছে। এটি প্রমাণ করে যে, অতি-উন্নত মিসাইলের মজুত নিয়ে ওয়াশিংটন কিছুটা চিন্তিত।
উৎপাদন চাপ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বৈঠক ডেকেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে পেন্টাগন দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
যুদ্ধের সবচেয়ে দামী এবং দুষ্প্রাপ্য অংশ হলো আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল (যেমন: প্যাট্রিয়ট)।
প্যাট্রিয়ট সংকট: একটি প্যাট্রিয়ট মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র বছরে মাত্র ৭০০টি প্যাট্রিয়ট বানাতে পারে, যেখানে তাদের মজুতে আছে মাত্র ১৬০০টির মতো।
ঝুঁকি: যদি ইরান এখনো বড় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম হয়, তবে এই প্যাট্রিয়ট মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। এতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (যেমন চীনের সাথে সম্ভাব্য দ্বন্দ্বে) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
অস্ত্রের সংখ্যা ও প্রযুক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে থাকলেও, ইরানের ভূখণ্ড ফ্রান্সের চেয়ে তিন গুণ বড় এবং পাহাড়ি গুহায় তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখার দীর্ঘদিনের কৌশল রয়েছে। ফলে আকাশপথে বোমাবর্ষণ করে সম্পূর্ণ বিজয় অর্জন করা আমেরিকার জন্য একটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।