চলমান ইরান-মার্কিন সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি ভিন্ন দেশে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। গত সোমবার (১৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্রমাগত হামলায় ১৩ জন সেনার প্রাণহানির পর এবার এত বিপুলসংখ্যক আহতের খবর সামনে এল।
সেন্টকম জানিয়েছে, হামলায় আহত হওয়া বেশিরভাগ সেনার জখমই সামান্য এবং এরই মধ্যে প্রায় ১৮০ জন চিকিৎসাসেবা নিয়ে পুনরায় নিজেদের দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তবে আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। সামরিক সূত্রমতে, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক এবং ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবস্থানগুলোতে ইরানের হামলার কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
প্রাণহানি ও আহত হওয়ার পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জামেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, চলমান এই সংঘাতে প্রায় এক ডজন অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। জেনারেল অ্যাটমিক্সের তৈরি চালকবিহীন এই ড্রোনগুলো অত্যাধুনিক ক্যামেরা, সেন্সর ও রাডারের সাহায্যে ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় ২৭ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উড়ে নিখুঁতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রায় ১৬ বছর আগে মার্কিন বিমানবাহিনীতে যুক্ত হওয়া এই ড্রোন আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ভারী অস্ত্র বহনেও সক্ষম।
এদিকে, এই সংঘাতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। জানা গেছে, ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরান পাল্টা আঘাত হানতে পারে—এমন সতর্কতা আগেই দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। যুদ্ধ-পূর্ববর্তী গোয়েন্দা মূল্যায়নে ইরানের এই প্রতিক্রিয়া ‘নিশ্চিত’ না হলেও সম্ভাব্য ফলাফলের তালিকায় ছিল বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তেহরানের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া তার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।