যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের মাঝেই নতুন এক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরানের সাথে যদি যুদ্ধবিরতির কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়, তবে বিশ্ববাজারে হুড়মুড় করে কমতে শুরু করবে জ্বালানি তেলের দাম। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার জেরে তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছিল। বিশেষ করে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নানামুখী হুমকির কারণে বর্তমানে ওই এলাকায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে আছে। ঠিক এই সংকটময় প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেশ আশাবাদী হলেও তিনি এখনই কোনো শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে রাজি হননি। তার মতে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও এখনই চূড়ান্ত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উভয় দেশ ইতোমধ্যে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা দফা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। এই শর্তগুলোর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, তাদের এই ১৫ দফার তালিকার প্রথম তিনটি শর্তেই ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে বর্জন করার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে এমন কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও নিজের ইচ্ছার কথা গোপন করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন যে, চুক্তির পাশাপাশি তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সব মিলিয়ে দুই দেশের এই আলোচনা সফল হলে একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।