ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় দূরপাল্লার নজরদারি সক্ষমতায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমান ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে এই ধ্বংসলীলার প্রমাণ মিলেছে। সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) এই খবরটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে।
স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণ ও ধ্বংসের চিত্র
সিএনএন প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিমানটির লেজ ভেঙে যেতে দেখা গেছে এবং এর ওপর থাকা বিশিষ্ট গোলাকার রাডারটি বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। হামলাটি সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেই হয়েছে বলে সিএনএন স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে তুলনা করে নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানটির ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
এডব্লিউএসিএস (AWACS)–এর গুরুত্ব ও ক্ষতির মাত্রা
এই ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ রাডার বিমানগুলো মূলত আকাশপথের আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এডব্লিউএসিএস (AWACS)–এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাবেক মার্কিন কর্নেল সেড্রিক লেইটন বলেন, এই বিশেষ রাডার বিমান ধ্বংস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতার জন্য একটি বড় আঘাত। এর ফলে দূর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার মার্কিন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব ও হতাহতের তথ্য
এই রাডার বিমানগুলো দশকের পর দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অপরিহার্য অংশ হিসেবে কাজ করছে। আকাশ থেকে এটি অবিশ্বাস্য ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে নজরদারি চালাতে সক্ষম। সাবেক কর্নেলের মতে, এর অভাবে মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ করা এবং শত্রুবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে সেগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন মাত্র ১৭টি বিমান রয়েছে, যা তাদের সামরিক শক্তির অন্যতম বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। সিএনএনের আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, তবে কেউ মারা যাননি।