• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন

ইরানের আকাশে চীনা ড্রোন ভূপাতিত: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে কি সরাসরি নামল সৌদি-আমিরাত?

Reporter Name / ৭২ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ অঞ্চলে একটি চীনা প্রযুক্তির ‘উইং লুং-২’ ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি মৌলিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে—তবে কি সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় শক্তিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সরাসরি সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে? যদিও প্রাথমিকভাবে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এমকিউ-৯ রিপার’ বলে দাবি করেছিল, কিন্তু ধ্বংসাবশেষের ছবি পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে এটি আসলে চীনা ড্রোন, যা দেখতে অনেকটা মার্কিন ড্রোনের মতোই।

সামরিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরান বা তার প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে এই মুহূর্তে ‘উইং লুং-২’ ড্রোনের ব্যবহারিক উপস্থিতি নেই। বিপরীতে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়েই এই চীনা ড্রোনের বিশাল মজুত গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইউএই এই ড্রোনটি সুদানের গৃহযুদ্ধেও ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। ইরানের নিজস্ব সামরিক ভাণ্ডারে এই মডেলের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ড্রোনটি প্রতিবেশী কোনো দেশ থেকেই উড়ে এসেছে। যদি সৌদি বা আমিরাত এই ড্রোন পরিচালনা করে থাকে, তবে তা হবে তেহরানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি প্রবেশের এক অকাট্য প্রমাণ।

এই রহস্যময় ড্রোনকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ব্যাপক কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে। জানা গেছে, সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের আকাশসীমা এবং কিং ফাহদ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে। রিয়াদ যদিও সরাসরি যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছিল, কিন্তু প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সন্তুষ্টি অর্জন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কঠিন ভারসাম্যের লড়াইয়ে তারা এখন হিমশিম খাচ্ছে। এরই মাঝে সৌদি যুবরাজকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য রাজপরিবারের ভেতরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সৌদি আরবের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। শুধু আকাশপথ নয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে শক্তি প্রয়োগের অনুমোদনের জন্য তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে। শিরাজের আকাশে এই ড্রোনের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়াযুদ্ধ এখন আর কেবল বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোও এখন সরাসরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াইয়ে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে এই একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাই বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের স্ফুলিঙ্গ হয়ে উঠতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category