• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের: যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা

Reporter Name / ৭৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে’ ধ্বংস করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। গত কয়েক দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে কারাজ শহরের ল্যান্ডমার্ক ‘বি১’ সেতুতে ভয়াবহ হামলার পর তেহরান এই পাল্টা হুমকির কথা জানাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে এই খবরটি বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কড়া বার্তা

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ (Khatam al-Anbiya) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাকারি (Ebrahim Zolfaghari) এক বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে বলেন:

“আপনারা যদি ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত করেন, তবে আমরা এই অঞ্চলে আপনাদের সমস্ত সম্পদ ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দেব। আক্রমণকারীদের শক্তি ও জ্বালানি অবকাঠামো প্রথম সুযোগেই ভস্মীভূত করা হবে।”

যুলফাকারি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই হুঁশিয়ারি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হুমকির জবাব। ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামো পুরোপুরি ‘মুছে ফেলার’ (Obliterate) যে হুমকি দিয়েছেন, তার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

মিত্র দেশগুলোর প্রতি সতর্কতা

ইরান কেবল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের প্রতিও হুঁশিয়ারি জারি করেছে। যুলফাকারি পরামর্শ দিয়েছেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি নিজেদের ভূখণ্ডে যুদ্ধের আঁচ এড়াতে চায়, তবে তাদের উচিত এখনই নিজ দেশ থেকে আমেরিকান বাহিনীকে চলে যেতে বাধ্য করা। অন্যথায়, ওইসব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় পড়বে।

কারাজ সেতু ধ্বংসের প্রেক্ষাপট

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী নির্মাণাধীন বি১ (B1) সেতুতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা। ১৩৬ মিটার উঁচু এই দৃষ্টিনন্দন সেতুটি ধ্বংসের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social) প্ল্যাটফর্মে সেই ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, ইরানের বৃহত্তম সেতুটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। ওই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হামলাকে ‘শত্রুর নৈতিক পতন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব হবে না। তবে ক্রমবর্ধমান এই হুমকি-পাল্টা হুমকির ফলে ওমান সাগর থেকে শুরু করে জর্ডান সীমান্ত পর্যন্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category