ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন এক নাটকীয় মোড় সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ দুই মার্কিন পাইলটকে হন্যে হয়ে খুঁজছে দুই পক্ষই। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে সর্বাধুনিক ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ মিশন পরিচালনা করছে, অন্যদিকে ইরান ঘোষণা করেছে বড় অংকের অর্থ পুরস্কার।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক বিশেষ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, নিখোঁজ মার্কিন পাইলটদের অবস্থান বা তাদের আটক করতে সহায়তা করলে ১০ বিলিয়ন ইরানিয়ান তোমান (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রায় ৬৪ হাজার ডলার) পুরস্কার দেওয়া হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তেহরানের এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা মার্কিন বাহিনীর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ভূপাতিত বিমানটির মডেল নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের বিশ্লেষণ তুলে ধরছে:
সিএনএন ও ইরান ইন্টারন্যাশনাল: স্যাটেলাইট এবং প্রচারিত ধ্বংসাবশেষের ছবি পর্যালোচনা করে সিএনএন জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ‘এফ-১৫ ইগল’ (F-15 Eagle) যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ধোঁয়াশা: শুরুতে কেউ কেউ একে অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫’ দাবি করলেও স্বাধীন কোনো সূত্র তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন তিনটি সূত্র সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছে যে, বিধ্বস্ত বিমানের ক্রুদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাদের উদ্ধারকারী ইউনিটগুলো সক্রিয় করেছে। এর আগে ইরানের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার করতে আসা একটি মার্কিন হেলিকপ্টারকেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত করা হয়েছে।
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন পাইলটরা যদি জীবিত অবস্থায় ইরানের হাতে বন্দি হন, তবে তা হবে বর্তমান যুদ্ধের সবচাইতে বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’। বন্দি পাইলটদের বিনিময়ে ইরান বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে পারে। এটি কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি একটি গভীর কূটনৈতিক ও সামরিক সংকটে রূপ নিতে যাচ্ছে।
বর্তমানে নিখোঁজ দুই পাইলটের ভাগ্য এবং তাদের হাতে পাওয়ার লড়াইকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।