পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার দ্বিতীয় দিনেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জে ডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা গত ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে—এটাই ভালো খবর। কিন্তু খারাপ খবর হলো, শেষ পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও তাদের ফিল্ড মার্শাল মুনির যে অসাধারণ কাজ করেছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়।”
ভ্যান্স জানান, আলোচনা চলাকালীন তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত ১২ বার ফোনে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত সহজ এবং আমাদের পক্ষ থেকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব (Final and Best Offer) তাদের কাছে রেখে যাচ্ছি। এখন দেখা যাক ইরানিরা সেটি গ্রহণ করে কি না।” মার্কিন প্রতিনিধি দলে জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফের উপস্থিতি এই আলোচনার গুরুত্ব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততাকে স্পষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে এসেছিল দাবি করে ভ্যান্স বলেন, “আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম এবং পরিস্থিতি মানিয়ে চলার মানসিকতা নিয়েই আলোচনা শুরু করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারাটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।”
যদিও ভ্যান্স বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের যে ‘রেড লাইন’ দিয়েছিল, তেহরান তা মানতে নারাজ।
আগামী ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও তারা বিষয়টিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব’ হিসেবে দেখছে।