• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

‘যুদ্ধে যা পায়নি, আলোচনায় তা দখল করতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র’—অভিযোগ ইরানের

Reporter Name / ৬৩ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ফিরে গেলেও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারার জন্য ওয়াশিংটনকে সরাসরি দায়ী করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে এমন সব ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী শর্ত’ দিয়েছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি।

১. ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

বৈঠকের ব্যর্থতা নিয়ে ইরানি প্রতিনিধি দল এখনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন না করলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ’ একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই সূত্র জানায়, “হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রকল্পসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য শর্তই এই বৈঠকের ব্যর্থতার প্রধান কারণ। মূলত যুদ্ধে তারা যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সেসব দখল করতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন।”

২. বিরোধের মূল কেন্দ্র: পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি

উল্লেখ্য, গত দুই দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। এর আগে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন এই ইস্যুতে সংলাপ চললেও কোনো সমাধান আসেনি। এর মাত্র একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলও শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’।

৩. ব্যর্থতার দায় কার?

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ উদ্দেশ্য’ এবং ‘নমনীয়তা’ নিয়ে এলেও ইরান তাদের দেওয়া ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ গ্রহণ করেনি। ভ্যান্সের মতে, ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো মৌলিক প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান বলছে—যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে যে ‘রেড লাইন’ টেনেছে, তা ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার বিষয়ে তেহরান একচুলও নড়তে রাজি নয়।

৪. যুদ্ধবিরতি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল দুই দেশ। সেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি সংলাপে বসেছিল প্রতিনিধিরা। কিন্তু ২১ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতা স্মারক (MoU) ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন তারা।

বিশ্লেষণ: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। কারণ ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ ক্ষুণ্ণ করে তারা কোনো চুক্তিতে সই করবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ‘সেরা ও চূড়ান্ত’ প্রস্তাবের মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category