দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় নিজের মন্ত্রিসভার শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রী দীপ কুমার সাহকে বরখাস্ত করেছেন তিনি। নিজের পদমর্যাদা ব্যবহার করে স্ত্রীকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার অভিযোগে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, দীপ কুমার সাহ তার স্ত্রীর স্বাস্থ্য বীমা বোর্ডের সদস্য পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার জন্য তদবির ও প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। বিষয়টি ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নজরে এলে দলটির সভাপতি রবি লামিছানে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি একে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং ‘সরকারি পদের অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
দলটির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করে এবং গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর কাছে মন্ত্রীকে অপসারণের সুপারিশ জমা দেয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন প্রধানমন্ত্রী পরদিনই সেই সুপারিশ গ্রহণ করে দীপ কুমার সাহকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। বর্তমানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখাশোনা করছেন।
এ ঘটনায় কেবল শ্রমমন্ত্রীই নন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রী নিশা মেহতাকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিষয়টি যথাযথভাবে সামাল দিতে এবং অনিয়ম রোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
জবাবদিহিতার নতুন দৃষ্টান্ত
উল্লেখ্য, গত মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রথাগত বড় দলগুলোকে পরাজিত করে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি। দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই খোদ নিজ দলের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াকে নেপালি প্রশাসনে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।