• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন

ব্যর্থ সংলাপের জের: আজ থেকে ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ, আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে তেলের বাজার

Reporter Name / ৬৪ Time View
Update : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই তেহরানকে চূড়ান্ত চাপে ফেলতে কঠোর পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র। আজ (সোমবার) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে সম্পূর্ণ নৌ-অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী সকাল ১০টা এবং ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে এই নৌ-অবরোধ শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো মার্কিন সামরিক জাহাজকে চলমান যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে ধরে নেওয়া হবে এবং এর বিরুদ্ধে চরম ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) রোববারের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অবরোধ কেবল পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর হয়ে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা প্রস্থানকারী সব দেশের জাহাজের ওপর কার্যকর হবে। তবে তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে ইরান ছাড়া অন্য কোনো দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক বা অন্যান্য জাহাজের চলাচলে মার্কিন বাহিনী কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অন্যান্য দেশের স্বাভাবিক বাণিজ্য অব্যাহত রাখার একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে সেন্টকমের এই বিবৃতির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের কড়া অবস্থানের একটি বড় ধরনের সাংঘর্ষিক দিক তৈরি হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প পুরো হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেওয়া এবং ইরানকে টোল প্রদানকারী যেকোনো জাহাজ আটকে রাখার হুমকি দিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষকরাও ওয়াশিংটনের এই পরস্পরবিরোধী তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ট্রাম্পের সার্বিক অবরোধের হুমকির বিপরীতে সেন্টকমের কেবল ইরানি বন্দরকেন্দ্রিক অবরোধের ঘোষণা সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।

এদিকে, এই নজিরবিহীন নৌ-অবরোধ এবং পাল্টা হুমকির ঘোষণার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতিতে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় হু হু করে বেড়ে গেছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি তেলের বাজারে বিশ্বজুড়ে নতুন করে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের অশনিসংকেত দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category