ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে এবার খ্রিষ্টান ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপের সঙ্গেও প্রকাশ্য বাদানুবাদে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের চরম ধ্বংসাত্মক হুমকির কড়া সমালোচনা করেছিলেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে প্রথম আমেরিকান পোপ লিও চতুর্দশ। আর এতেই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে পোপকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে পোপ লিও চতুর্দশকে সরাসরি নিশানা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, পোপ বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের ‘পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভীষণ ক্ষতিকর’। ধর্মগুরুকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘পারমাণবিক ইস্যুতেও চরম দুর্বল’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প তার পোস্টে ক্ষোভের সুরে লেখেন, তিনি এমন কোনো পোপ চান না, যিনি মনে করেন ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক। খোদ ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মূলত এই নজিরবিহীন বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে ট্রাম্পের দেওয়া একটি ভয়ংকর সামরিক হুমকির পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি চলমান যুদ্ধ থামাতে রাজি না হয়, তবে ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী ও ধ্বংসাত্মক মন্তব্যের পরপরই এর তীব্র নিন্দা জানান পোপ লিও। তিনি ট্রাম্পের ওই হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার এই বিষয়টি কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং এর চেয়েও অনেক বড় একটি নৈতিকতার প্রশ্ন। আর ধর্মগুরুর এই স্পষ্ট ও নৈতিক অবস্থানই ট্রাম্পের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।