দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ (PayPal) চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পেপ্যাল চালু ও হাই-টেক পার্কের উন্নয়ন
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু করতে এবং হাই-টেক বা সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বর্তমানে ৮৩টি সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এতে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড ও কর্মসংস্থান
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে দেশে ফ্রিল্যান্সারদের স্বীকৃতি ও দক্ষতা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
আগামী ৫ বছরে মোট ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে (ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে)।
আগামী ৫ বছরে ১ হাজার জনকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করা হবে।
উচ্চপ্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন
তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য প্রস্তুত করতে সরকার বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে:
এআই ও ভিআর প্রশিক্ষণ: ২০২৬ সালে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ জনকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), মেশিন লার্নিং (ML) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (VR) মতো উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আইটিইই (ITEE) প্রশিক্ষণ: আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েটকে আইটিইই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ডিপ্লোমা ও শর্ট কোর্স: ৫ হাজার ২০ জন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীকে এআই, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স এবং সাইবার সিকিউরিটির ওপর স্বল্পমেয়াদি কোর্সের পাশাপাশি ১ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করানো হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য উদ্যোগ
প্রযুক্তির এই সুবিধায় সমাজের সব স্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে সরকার।