২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা হোটেল কর্মচারী আমির হোসেনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা এবং একই ঘটনায় দুজনকে হত্যার দায়ে দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার রায় আজ রোববার (২৮ জুন) ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় প্রদান করবেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে রায় সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মামলার নথিপত্র ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে আমির হোসেন কর্মস্থল থেকে তার ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে আসা এই তরুণ বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কে পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতি দেখে প্রাণ বাঁচাতে একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। পিছু নেওয়া পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে আমির ভবনটির ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে পড়েন। এই অসহায় অবস্থায় থাকা আমিরকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালালে তিনি তিনতলায় পড়ে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বনশ্রীর একটি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনাসহ একই দিনে দুজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন—সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান, রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। আসামিদের মধ্যে বর্তমানে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন।
বিচারপ্রার্থী এবং জুলাই বিপ্লবের শিকার পরিবারগুলোর জন্য আজকের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার সংবেদনশীলতা এবং জনগণের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে রায়টি সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিতর্কিত ও নৃশংস ভূমিকার বিচারিক স্বীকৃতি মিলবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
আজকের এই রায় বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে আইনি কাঠামোর ভেতর কাজ করতে বাধ্য করবে। অপরাধীদের শাস্তির প্রতীক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগী আমির হোসেনের পরিবারসহ সারা দেশের মানুষ।