মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি খোদ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, তার এখন প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বের জন্য তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা। শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্য উঠে আসে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির বিষয়েও নিজের অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, এই মুহূর্তে যুদ্ধ শেষ করার জন্য তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন একেবারেই প্রস্তুত নয়। ইরান চুক্তির জন্য মরিয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমান শর্তগুলো যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। ট্রাম্পের মতে, যেকোনো চুক্তি হতে হবে অত্যন্ত দৃঢ় ও শর্তহীন। এই প্রসঙ্গেই তিনি মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ তাকে প্রকাশ্যে দেখতে পায়নি। ট্রাম্পের দাবি, তিনি শুনেছেন মোজতবা বেঁচে নেই; আর যদি বেঁচেও থাকেন, তবে দেশের স্বার্থে তার অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করাটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দামের বিষয়টি মাথায় রেখে এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সাময়িকভাবে রাশিয়ার তেল খাতের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর যেসব কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, বর্তমান সংকট কাটলেই তা পুনরায় বহাল করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, “আমি বিশ্বের জন্য তেল চাই। আমি শুধু তেল চাই।” তার এই মন্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট হয়ে ইসরায়েল ইরানের ওপর যে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে, তা গোটা অঞ্চলকে এক চরম অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ওই যৌথ হামলায় দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান। এর জেরে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে লাগাতার পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তেহরান। একই সঙ্গে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রকেট হামলা চালাচ্ছে এবং জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মুহুর্মুহু বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।