• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

ইসরায়েলি কারাগারে চরম বর্বরতা: যুদ্ধ শুরুর পর ৮৯ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

Reporter Name / ৮২ Time View
Update : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন বন্দিশালায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স সোসাইটির রোববারের এক বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার নাবলুসের বাসিন্দা মারওয়ান হারজাল্লাহর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি কারাগারে নিহত ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা বেড়ে ৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিশ্চিতভাবে নিহত এই বন্দিদের মধ্যে ৫২ জনই গাজা উপত্যকার বাসিন্দা।

নির্যাতন ও অমানবিক বন্দিদশা

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, কারাগারে বন্দিদের এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হলো পদ্ধতিগত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তীব্র অনাহার এবং চরম চিকিৎসায় অবহেলা। এর পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, অধিকার হরণ, পদে পদে অপমান এবং মানবিক মর্যাদা লঙ্ঘনকারী অমানবিক বন্দিদশার কারণেই মূলত ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হচ্ছে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের।

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড

সংস্থাটি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, গাজা থেকে আটক হওয়া অনেক বন্দি এখনও জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়ে আছেন এবং ডজন ডজন ফিলিস্তিনিকে মাঠপর্যায়েই সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হস্তান্তর করা বন্দিদের মৃতদেহ ও দেহাবশেষের ছবিগুলো পদ্ধতিগত বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অধ্যায়

ফিলিস্তিনি বন্দি আন্দোলনের ইতিহাসে বর্তমান সময়টিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছে প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স সোসাইটি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কারাগারে মোট ৩২৬ জন ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে নিহত যে ৯৭ জন বন্দির মৃতদেহের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা গেছে, তাদের ৮৬ জনই মারা গেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category