দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির আমাজন অঞ্চলের অন্তর্গত পুতুমায়ো প্রদেশের পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকার কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মার্কিন প্রযুক্তির ‘সি-১৩০ হারকিউলিস’ মডেলের এই কার্গো বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। ভূপাতিত হওয়ার পরপরই বিমানে থাকা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারদিকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। ঘন জঙ্গলের ভেতরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় অর্ধশতাধিক আরোহীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার শিকার এই বিমানটিতে সেনাসদস্য, পুলিশ এবং ক্রু মিলিয়ে মোট ১২৫ জনের বেশি আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে। কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, পেরু সীমান্তের কাছাকাছি একটি বিমানবন্দর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে রওনা হয়েছিল বিমানটি। তবে আকাশপথে ওঠার পরপরই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। স্থানীয় দমকল কর্মীদের ধারণা, দ্রুতগতিতে নিচে পড়ার সময় বিমানের একটি ডানা বড় গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তবে বিমানটিতে কোনো সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পরপরই দুর্গম ওই এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কর্তৃপক্ষের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। তবে সামরিক বাহিনীর গাড়ি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা নিজেদের মোটরসাইকেলে করে অগ্নিদগ্ধ ও আহত সেনাদের দ্রুত কাছের হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই ঘটনাকে দেশের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।