• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
বারিশা হকের এক স্ট্যাটাসেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট নাহিদের জোড়া আঘাত: মিরপুরে পাওয়ার প্লেতেই কিউইদের চেপে ধরল বাংলাদেশ বগুড়াসহ ৭ জেলায় যুগান্তকারী ‘ই-বেইল বন্ড’ সেবার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মেহেরপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা গুরুতর আহত টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত বাসের দুই কর্মী উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন নিয়ে নিজ জেলা বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ টিকাদান: কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের ফাঁদে রাজধানীবাসী যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি: নেতানিয়াহু যিশুর মূর্তি ভাঙ্গলেন ইসরাইলি সেনারা (ভিডিও)

চীনের পাশার দানে পতন ঘনাচ্ছে ‘পেট্রো-ডলারের’?

Reporter Name / ৫১ Time View
Update : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের অন্যতম প্রধান ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ক্র্যাডল’-এর এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানকে সঙ্গে নিয়ে বেইজিং মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি জটিল দাবার ছক সাজিয়েছে। চীনের চোখে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই একটি ‘বৈশ্বিক হুমকি’ এবং ‘যুদ্ধে আসক্ত’ দেশ, যার ২৫০ বছরের ইতিহাসে মাত্র ১৬ বছর শান্তির সময়কাল ছিল। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই ইরান ও চীনের মধ্যকার ২৫ বছরের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় তেহরানকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে বেইজিং। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রের চেনা নিয়মকানুনও এখন অনেকটাই চীনের হস্তক্ষেপে বদলে যেতে শুরু করেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের এই নতুন শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস হলো চীনের অত্যাধুনিক ‘বাইদু নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম’ (বিডিএস) বা জিএনএসএস। নিজস্ব জিপিএস ব্যবস্থার সমতুল্য এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরান এখন সম্পূর্ণরূপে যুক্ত। কক্ষপথে থাকা ৪০টিরও বেশি বাইদু স্যাটেলাইট এবং চীনের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ এখন সহজেই ইরানের নজরে আসছে। এই নিখুঁত নেভিগেশন প্রযুক্তির সহায়তায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে, যা গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়কে (টাইমিং) অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে এনেছে। পাশাপাশি, রাশিয়ার সমান্তরাল সহায়তায় তেহরান এখন শুধু ড্রোন হামলার কৌশলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ড্রোনের বিশাল ঝাঁক ছুড়ে দেওয়ার ভয়ংকর ‘রুশ পদ্ধতি’ও সফলভাবে প্রয়োগ করছে।

সামরিক রণকৌশলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রেও বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করেছে এই দুই মিত্র দেশ। কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান এখন ‘পেত্রো-ইউয়ান’ বা ইউয়ানভিত্তিক লেনদেনকে বাধ্যতামূলক করার অলিখিত কৌশল নিয়েছে। বর্তমানে কেবল সেসব তেলবাহী ট্যাংকারকেই এই প্রণালি দিয়ে ট্রানজিটের অনুমতি দিচ্ছে তেহরান, যাদের কার্গোর মূল্য পেত্রো-ইউয়ানে পরিশোধ করা হয়েছে। এখানে মার্কিন ডলার বা ইউরোর কোনো স্থান রাখা হচ্ছে না। মূলত ২০২২ সালের ডিসেম্বরেই গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোকে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের আমন্ত্রণ জানিয়ে বেইজিং পেত্রো-ডলার ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বর্তমানে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানির আর্থিক নিষ্পত্তি হচ্ছে ইউয়ানে, যেখানে চীনের নিজস্ব ‘সিআইপিএস’ (CIPS) পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদি, গভীর ও সমন্বিত কৌশলের অংশ। চীনের এই পরিকল্পনাবিদরা জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নতি, সবুজ জ্বালানি সমাধান এবং বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের পেটেন্টের আইনি সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোতে দীর্ঘ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্জনযোগ্য কঠোর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে এই পুরো বিষয়টিকে যুক্ত করলেই বেইজিংয়ের বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারের নকশাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর এই বৃহৎ কৌশল বাস্তবায়নের পথেই ইরানকে অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে পাশে রেখে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী ও বহুমুখী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বেইজিং।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category