মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবার মোড় নিয়েছে চরম আক্রোশ ও প্রাণঘাতী হুমকির দিকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সর্বাত্মক যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ রোববার আইআরজিসির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক কড়া বার্তায় নেতানিয়াহুকে নিশানা করে বলা হয়েছে, যেকোনো মূল্যে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে তাঁকে ধাওয়া ও হত্যা করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে তেহরান।
এই নজিরবিহীন হুমকির শেকড় লুকিয়ে আছে মাত্র দুই সপ্তাহ আগের এক ঘোষণায়। মূলত ইরানের বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত পতনের ডাক দিয়ে তেহরানের বিরুদ্ধে এই প্রকাশ্য যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক বিপজ্জনক গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিনই রচিত হচ্ছে নতুন নতুন ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাস।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই এক অভাবনীয় ও ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী হয় বিশ্ব। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি তেহরানের বুকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো এক যৌথ হামলায় প্রাণ হারান দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এই অপ্রত্যাশিত ও বড় ধাক্কার পর ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে আসে আকস্মিক পরিবর্তন। নিহত আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন এবং প্রতিরোধের ডাক দেন।
শীর্ষ নেতৃত্বের এই পালাবদলের পরও বাগ্যুদ্ধ ও সামরিক আস্ফালন থামেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে তেল আবিব সামনে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে? অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও মারমুখী ভঙ্গিতে নেতানিয়াহু এর জবাবে জানান, তিনি এই ‘সন্ত্রাসী’ নেতাদের কারোরই জীবনবিমার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না। আর তাঁর এমন দাম্ভিক মন্তব্যের পরপরই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই পাল্টা হত্যার হুমকি সামনে এল।