ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঝানু কূটনীতিক জাভেদ জারিফ চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরানকে এক সাহসী ও কৌশলগত পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের উচিত এখনই ‘বিজয় ঘোষণা’ করে যুদ্ধের ইতি টানা। জারিফের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানোই হবে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এড়ানোর এবং ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার শ্রেষ্ঠ উপায়।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বশক্তির সঙ্গে আলোচনার প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত জাভেদ জারিফ তার এই নিবন্ধে তেহরান, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সুবিধাজনক সমঝোতার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, ইরান যদি তার অর্জিত সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানকে পুঁজি করে এখনই আলোচনায় বসে, তবে তারা এমন কিছু শর্ত আদায় করতে পারবে যা আগে সম্ভব ছিল না। তার প্রস্তাবিত এই শান্তি পরিকল্পনায় মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, জারিফ প্রস্তাব করেছেন যে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের উচিত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন অতীতে এই ধরনের শর্তে রাজি না হলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এবং জ্বালানি সংকটের মুখে তারা এখন এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়াতে একটি ‘অনাক্রমণ চুক্তি’র (Non-aggression pact) কথা বলেছেন তিনি। যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই একে অপরের ওপর হামলা না করার চূড়ান্ত অঙ্গীকার করবে। পরিশেষে, জারিফ একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রস্তাব দেয় যা উভয় দেশের সাধারণ মানুষের জন্য লাভজনক হবে, তবে তা রাজনৈতিক বৈরিতাকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। জারিফের এই দূরদর্শী প্রস্তাব তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে শান্তির নতুন পথ খুলে দিতে পারে।