• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ অপরাহ্ন

হাজারো শহীদের রক্তে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা: রাষ্ট্রপতি

সংসদ প্রতিবেদক / ১০৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।

ভাষণের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকার আহতদের সুচিকিৎসায় ১২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে। এছাড়া, শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঢাকায় ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণতন্ত্র ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান

একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদের যাত্রা শুরু হওয়াকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” এসময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও লক্ষ্যমাত্রা

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান:

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে।

  • ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

  • ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার

রাষ্ট্রপতি ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠনের ঘোষণা দেন। এছাড়া পুঁজিবাজারের অনিয়ম ও কারসাজি তদন্তে একটি পৃথক কমিশন গঠন করা হবে বলে জানান তিনি, যারা বিগত শাসনামলের সকল অনিয়ম খতিয়ে দেখবে।

বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ ও স্লোগানের মুখেও রাষ্ট্রপতি তার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ প্রদান করেন এবং জাতীয় সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category