• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

আপসের টেবিলে তেহরানের কড়া চাল: মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার ও বিপুল ক্ষতিপূরণ দাবি

Reporter Name / ১১০ Time View
Update : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, তার অবসানে এবার নতুন মোড় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরোক্ষ শান্তি আলোচনার উদ্যোগের বিপরীতে তেহরান এবার নিজেদের অবস্থান কঠোরভাবে তুলে ধরেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরান ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কাছে অত্যন্ত কঠিন এবং সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু দাবি পেশ করেছে।

ইরানি এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তেহরানের প্রথম এবং প্রধান দাবি হলো—ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের কোনো যুদ্ধ আর কখনো তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, তার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি গুটিয়ে ফেলার কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, এই সংঘাতে ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ইরানের যে বিপুল পরিমাণ অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে যৌথভাবে প্রদান করতে হবে বলে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

সামরিক ও আর্থিক দাবির বাইরে কৌশলগত এবং তথ্যযুদ্ধ নিয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নতুন একটি আইনি কাঠামো প্রণয়নের দাবি তোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে এই প্রণালির নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ মূলত তেহরানের হাতেই ন্যস্ত থাকবে। এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে যেসব সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তি ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের সরাসরি তেহরানের হাতে তুলে দিতে হবে অথবা যথাযথ বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছে। তাদের তথ্যমতে, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বা প্রক্সিগুলোর বিরুদ্ধে চলা সমস্ত সামরিক অভিযানসহ এই অঞ্চলের চলমান সব যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার শর্তও জুড়ে দিয়েছে ইরান।

তেহরানের এই পাল্টা শর্তগুলোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ জোরালো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। টেনেসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে এই পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভাবনীয় সাফল্যের কারণেই তেহরান এবার বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই হয়তো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে তিনি একটি বিষয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছেন—চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার একটি নতুন সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেহরান এই সুযোগ কাজে লাগালে গোটা বিশ্ব আরও বেশি নিরাপদ ও স্থিতিশীল হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category