মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের তীব্রতা প্রতিদিন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মুখে দাঁড়িয়েও নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না ইরান। উল্টো বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা যুদ্ধবিরতির কোনো অনুরোধ করবেন না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো কারণও দেখছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ স্থল আক্রমণের আশঙ্কার বিষয়ে আরাঘচি বলেন, “আমরা তাদের (মার্কিন বাহিনীর) অপেক্ষায় আছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম। যদি তারা স্থল অভিযানে নামার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেটি তাদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।” তিনি দাবি করেন, এর আগেও দুইবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেও ইরান প্রতারিত হয়েছে, কারণ আলোচনার মাঝেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাই নতুন করে আলোচনার আর কোনো সুযোগ নেই।
রণতরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা এদিকে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে ইরানের নতুন এক দাবির কারণে। বৃহস্পতিবার ইরান জানিয়েছে, তাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওমান উপসাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-কে ড্রোন হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, ইরানি ড্রোনের আঘাতের পর রণতরীটি এবং তার সঙ্গী ডেস্ট্রয়ারগুলো দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বর্তমানে অঞ্চল থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান করছে।
অব্যাহত সংঘাতের প্রভাব গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডারসহ বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ইরানের অবস্থান | যুদ্ধবিরতির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান ও আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ। |
| সামরিক পদক্ষেপ | ওমান উপসাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এ ড্রোন হামলা। |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান | ইসরায়েলের সাথে যৌথ হামলা অব্যাহত। |
| ভবিষ্যৎ আশঙ্কা | ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি স্থলযুদ্ধের সম্ভাবনা। |