ইরানের নিক্ষিপ্ত অত্যাধুনিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা পর্যন্ত চলা এসব হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আহতদের বর্তমান অবস্থা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে আহত ২৩২ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং আটজন মাঝারি মাত্রার আঘাত পেয়েছেন। বাকি ২১৫ জন বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে শারীরিক আঘাতের বাইরেও অন্তত সাতজন ব্যাপক মানসিক উদ্বেগ ও চরম ভীতিতে (ট্রমা) ভুগছেন, যাদের নিবিড়ভাবে মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যেভাবে শুরু হলো এই সর্বাত্মক যুদ্ধ
মূলত গত দুই দশক ধরে ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের চরম দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই সংকট নিরসনে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও, শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমঝোতা ছাড়াই তা ভেস্তে যায়।
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) নামে নজিরবিহীন সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ (Operation Roaring Lion) নামে ইরানে নিজেদের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। এই যৌথ ও আকস্মিক অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও লক্ষ্যবস্তু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ভয়াবহ হামলার পর চুপ করে বসে নেই তেহরানও; সমানতালে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে তারা। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।
এক মাসের সংঘাতে আহত ৬ হাজার ইসরায়েলি
অব্যাহত এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি চরম রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ দাপ্তরিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ এক মাসে ইরানের নিরবচ্ছিন্ন হামলায় মোট ৬ হাজার ৮ জন ইসরায়েলি আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিপুল সংখ্যক এই আহতদের মধ্যে ১২১ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে ওই বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।