• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন

ইরানের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা

Reporter Name / ১১১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফারস নিউজ এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে আসালুয়েহ অঞ্চলে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে জরুরি উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতায় আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত সাউথ পার্স বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র, যার একটি অংশ কাতারের মালিকানাধীন (যা কাতারে নর্থ ফিল্ড নামে পরিচিত)। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পূরণ করে থাকে। এই নজিরবিহীন হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ থেকে ১১০ ডলারে পৌঁছে যায়। এছাড়া এই হামলার কারণে ইতিমধ্যেই ইরাকে ইরানের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এই হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি প্রধান জ্বালানি স্থাপনার আশপাশে বসবাসরত সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। আইআরজিসি-র এই লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-হোসন গ্যাসক্ষেত্র, কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ কমপ্লেক্স এবং সৌদি আরবের আল-জুবাইল ও সামরেফ রিফাইনারি। এই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারের রাস লাফান কমপ্লেক্সে এবং সৌদি আরবের রিয়াদে পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

ইসরায়েলের এই নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো। কাতার এই হামলাকে একটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, জ্বালানি স্থাপনায় এ ধরনের আক্রমণ পরিবেশ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরাসরি বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত এখন সরাসরি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি মাশুল হয়তো পুরো বিশ্বকেই গুনতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category