• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ

এক সংসদ ভবিষ্যৎ সংসদের হাত-পা বেঁধে দিতে পারে না, প্রসঙ্গ: তত্বাবধাক সারকার।

Reporter Name / ৮৮ Time View
Update : সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলন জমাতে গিয়েও পারছে না বিরোধী দল। আর নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার বলতে তারা বোঝেন তত্বাবধায়ক সরকার। তারা বলছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। এ যুক্তি ও একদফার দাবিতে বিএনপি বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে। জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। এর বিপরীতে প্রশ্ন-কোন দুঃখে তত্বাবধায়ক আবার ফেরাবে সরকার? পুনরায় প্রবর্তণের জন্য কি এ বিধানটি বাতিল করেছিল তারা?–না, মোটেই না।
ঠাণ্ডা মাথার বুদ্ধিতে আদালতের মাধ্যমে কাফন পরিয়ে অসম্পূর্ণ দাফনে রাখা একটি পদ্ধতিকে আবার পুনর্জ্জীবন দেয়া সম্ভব নয়, তা বুঝেই আইনমন্ত্রী জোর গলায় বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের সুযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে এবং সে অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। ওই রায়ের মাঝেও ছিল কিছু প্রশ্ন বা প্যাঁচ। আদালত সংক্ষিপ্ত আদেশে বলা হয়েছিল, সংসদ চাইলে দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। এর মাঝেও গোলমাল। যা অবৈধ-অসাংবিধানিক তা কেন সংসদ চাইলে আরো দুবার করা যাবে? আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সংসদের কোন ঠেকা লেগেছে তা চাওয়ার?
তত্বাবধায়ক বাতিলের বুদ্ধি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা বা অজুহাত এই বিএনপিই সরকারকে করে দিয়েছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি সরকার যদি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বয়স না বাড়াতো তাহলে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিতর্কের মুখে পড়তো? আজকের  ক্ষমতাসীনরাও তেমন কিছুর অপেক্ষাই করছিল। বিতর্কের অজুহাত তোলা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করার জন্যই। বিতর্কিত অর্থ এই নয় যে মাথা ব্যথা থাকলে মাথা কেটে ফেলতে হবে। যেসব বিষয় নিয়ে সমস্যা ছিল সেগুলো মডিফাই করা যেত। সরকার মোটেই সেই পথে যায়নি। অজুহাতকেই ষোলো আনা কাজে লাগিয়েছে।
দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সংবিধান বা আইনের তত্ত্বকথা বোঝেন না বা এতো বোঝার কাজে যান না। দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মিদের বেলায়ও একই বাস্তবতা। দলের শীর্ষপর্যায়ের কথা বাজারজাত করাই তাদের কাজ। এ সুযোগটা কাজে লাগান চতুর রাজনীতিকরা।
যে কোনও দেশের সংবিধান সে দেশ ও জনগণের স্বার্থেই প্রণীত এবং এর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ওই দেশ ও জনগণের স্বার্থেই হওয়া উচিত’ এ সত্যটি মেনে নিলে কিন্তু আর সমস্যা থাকে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান প্রশ্নে আপিল বিভাগের ২০১১ সালের ১০ মে প্রদত্ত আদেশ এবং ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নবম জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস এবং ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ প্রকাশিত আপিল বিভাগের বিস্তারিত রায় আমলে নেয়ার মতো এতো সময় কার? দরকারই বা কী?
সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে স্বাধীনতার পর যদি বাংলাদেশে ভালো একটা কাজও হয়ে থাকে সেটা ছিল তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা । কিন্তু, আইনটিকে ‘ইমুনিট ‘ দেয়া হয়নি।  আরো অন্যান্য আইনের মতো যেনতেন আইনই রাখা হয়েছে। কেউ বা কোন সরকার চাইলেও এ আইনকে পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে না-এমন ইমুনিটি দেয়া হলে তত্বাবধায়ক নিয়ে এতো নোংরামি কেউ করতে পারতো না। প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নির্বাচন পদ্ধতি। কার অধীনে নির্বাচন হবে – ক্ষমতাসীন সরকার, নাকি নির্দলীয় একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার? সেই বিতর্কের অবসান হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, যখন ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রবল বিক্ষোভের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে এই নির্বাচন পদ্ধতি বাতিল করে দেয়। এখন এই বিতর্ক নতুন করে মাথা-চাড়া দিয়ে উঠেছে।
নব্বই-এর দশকে আওয়ামী লীগ ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীদার। কিন্তু ২০২৩ সালে বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু ১৯৯৬ এর পরবর্তী ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০১-০৬ সালের বিএনপি সরকারের একটি সিদ্ধান্ত এমন একটি প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়, যেটা সম্ভবত গোটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিতর্কের মুখে ফেলে দিয়েছে। ৯০ সালে সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের পতনের পর চারটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এসব নির্বাচনের মাধ্যমে একবার বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে বারবার ক্ষমতায় পালাবদল হয়েছে। উনিশ’শ একানব্বই সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোন একটি দল পরপর দুইবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। পরাজিত দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এসব নির্বাচনের ফলাফল দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল।
উনিশ’শ একানব্বই সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও সে ধরণের সরকার ব্যবস্থা সংবিধানের অংশ ছিল না। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সে নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৪ সাল থেকে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবি তুলে ধরে এক যোগে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএনপি সরকার সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে, যেটা সকল বিরোধী দল শুধু বর্জন নয়, ব্যাপক বিক্ষোভের মাধ্যমে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। বিতর্কিত এই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালের ২৬শে মার্চ তৎকালীন বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়।
এরপর ১৯৯৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। দেশে-বিদেশে সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। নির্বাচনে পরাজিত দল বিএনপি নির্বাচনে ‘পুকুর চুরির’ অভিযোগ আনলেও, তাদের সেই দাবি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে। সে নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী জোট ব্যাপকভাবে জয়লাভ করে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্ব এবং কারচুপির অভিযোগ আনে আওয়ামী লীগ। কিন্তু সেটি হালে পানি পায়নি ২০০১ সালের সে নির্বাচনও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।
নানান দিক ভেবেচিন্তে ক্ষমতাসীনরা খুব বুদ্ধি করে বিষয়টিকে আদালতের ঘাড়ে নিয়ে কাফন পরিয়েছে। বিচারপতি খায়রুল হক চূড়ান্ত রায় থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন। অবসরের পর পরই জাতীয় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়াসহ এর নানা পুরস্কার তিনি প্রাপ্ত হয়েছেন। রায়ে কিঞ্চিত গোলমালও রেখে গিয়েছিলেন তিনি। আওয়ামীরা পরবর্তী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার সুযোগ থাকার পরেও, সে পথে না গিয়ে আদালতের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই বিলুপ্ত করেছে। বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় বিএনপির খোঁচা দেয়া জায়গায় ফোঁড়া বানিয়ে আওয়ামী লীগ বেনিফিট নিয়েছে।  আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশ অমান্য করেই পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়েছে, অর্থাৎ এটি হলো অসাংবিধানিক সংবিধান সংশোধন। এটি অসাংবিধানিক সংবিধান সংশোধনী হওয়ার আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর সুবাদে গণভোট অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক হলেও পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের সময়ে তা করা হয়নি। কারো কারো মতে, সংসদ ইচ্ছা করলে এরই মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের বিচারকদের বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে পারে। সরকার বা মরকারি দল কোন দুঃখে আত্মহননের এ কাজটি করবে? তার চেয়েও বড় কথা মূল রায় আর সংক্ষিপ্ত রায়ে একটা কেওয়াজ বাধিয়ে দেয়া হয়েছে। তত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক হলে পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলে তা বৈধ হয় কিভাবে? এ স্ববিরোধীতাও কারো কারো কাছে শুধু প্রশ্ন নয়, হাতিয়ারও। চিকন বুদ্ধিতে তারা বলতে চান-রায়েই বলা হয়েছে ’সংসদ চাইলে’। সংসদ তো চায়নি। অতএব তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা বাতিল একদম শুদ্ধ। মানুষ এ মশকরার শিকার হতে বাধ্য।
প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের প্রদত্ত সংক্ষিপ্ত আদেশটি নিয়ে সরকার–বিশিষ্টজন ও গবেষকদের অবস্থান তখন থেকেই সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। সরকার ও বিশিষ্টজনদের মতে, আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল-সম্পর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী একতরফাভাবে পাস করা হয়। তাদের বিপরীতমুখী অবস্থানের পেছনে যুক্তি হলো-যে সংসদের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের বিষয়টি আদালতের পর্যবেক্ষণ, আদেশ নয়।
তাদের এই মতামত যে সঠিক নয়, আমাদের দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞদের অভিমতের দিকে তাকালেই তা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, প্রয়াত এম জহিরের মতে, ‘আগামী দশম ও একাদশ নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায়। কিন্তু বিচারকদের না জড়ানোর জন্য সংসদ সংশোধনী আনতে পারবে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।’ (বাংলা নিউজ, ১০ মে ২০১১)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন–এর (২ জুন ২০১১) এক প্রতিবেদনে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়: ‘আগামীতে দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে—এটি আপিল বিভাগের আদেশ, পর্যবেক্ষণ নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বেআইনি হলেও প্রয়োজন এটাকে আইনানুগ করেছে বলে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে…সরকার নিজেদের সুবিধার জন্য রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে পর্যবেক্ষণ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে…বলছেন আগের অংশ জাজমেন্ট পরের অংশ জাজমেন্ট নয়…কেন এটা বলছেন বোধগম্য নয়…অবশ্য পলিটিকস করতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয়। নিজে বিশ্বাস না করলেও অনেক সময় বলতে হয়।
সরকারের এই অবস্থানের বিপরীতে ব্যারিস্টার আদিবা খান ইন্টারন্যাশনাল রিভিউ অব ল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দাবি করেন, ‘বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং ভোটারদের বিরোধিতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সংসদে তার ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী দুই জাতীয় নির্বাচনের সময়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল থাকার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে।’ গবেষক রিদওয়ানুল হকও এক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে পঞ্চদশ সংশোধনীকে ‘অসাংবিধানিক সংবিধান সংশোধনী’ বলে আখ্যায়িত করেন।
ক্ষমতাসীন দল এবং তাদের সমর্কদের এখন আর এসব যুক্তির ধারেকাছেও যাওয়ার সময় নেই। অথচ গণতন্ত্র,অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ আর গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে এক সংসদ ভবিষ্যৎ সংসদের হাত-পা কোনদিন বেঁধে দিতে পারে না।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
-রিন্টু আনোয়ার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category