যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান চরম আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়েই ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। এমনকি একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল তেহরান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদলের চরম অবস্থান, লক্ষ্য পরিবর্তন ও অবরোধের হুমকির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি।
ইসলামাবাদের এই ব্যর্থ সংলাপ নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে আরাগচি তার এক্সবার্তায় জানান, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম কোনো নিবিড় ও সরাসরি সংলাপে ইরান কেবল যুদ্ধ বন্ধের সদিচ্ছা নিয়েই অংশ নিয়েছিল। কিন্তু যখন তারা ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ)’-এ স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিলেন, তখনই মার্কিন প্রতিনিধিরা চরম শর্ত জুড়ে দেন এবং আলোচনার মূল ইস্যুগুলো বদলে ফেলেন। এই সংলাপ থেকে প্রাপ্তি ও শিক্ষাকে শূন্য উল্লেখ করে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন, সদিচ্ছা থেকেই কেবল সদিচ্ছার জন্ম হয়, আর শত্রুতা শুধুই শত্রুতা ডেকে আনে।
ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে টানাপোড়েন চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন সংলাপ চলেছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে ভয়ংকর সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামের ওই নজিরবিহীন হামলায় টানা ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই দিনের হামলায় খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি ও ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান এবং মোজতবা নিজে গুরুতর আহত হন।
সেই রক্তক্ষয়ী হামলার পর কূটনৈতিক উপায়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টায় গত ৭ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই সূত্র ধরেই গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মুখোমুখি বসেছিল দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল। কিন্তু টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে মার্কিন সদিচ্ছার অভাবে কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই উভয় পক্ষ টেবিল ছাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে।