• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন

ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুতির ডাক যুক্তরাষ্ট্রে: উত্তাল রাজপথ ও কংগ্রেসে অভিশংসনের দাবি

ওয়াশিংটন ডেস্ক / ৬৭ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও শান্ত হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘কর্তৃত্ববাদী শাসন’ এবং ইরানের একটি ‘আস্ত সভ্যতা’ বিলীন করে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলেছেন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেত্রী ও কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ (AOC)

যুদ্ধবিরতি ‘কিছুই বদলায়নি’: ওকাসিও-কর্তেজ

কংগ্রেসওম্যান ওকাসিও-কর্তেজ এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সাফ জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ট্রাম্পের অপরাধ বা মানসিকতাকে আড়াল করতে পারে না। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং সেই হুমকিকে এখনো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। আমরা বিশ্বকে এবং আমাদের দেশের মঙ্গলকে আর ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি না।” তিনি সরাসরি ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা এবং কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁকে অভিশংসিত বা ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য।

ইতিহাসের বৃহত্তম ‘নো কিংস’ আন্দোলন

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনরোষ কেবল কংগ্রেসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ (No Kings) আন্দোলনে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। এই আন্দোলনের মূল কারণগুলো ছিল:

  • অর্থনৈতিক ধস: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করায় মার্কিন অর্থনীতিতে চরম মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দা দেখা দিয়েছে।

  • গণহত্যার হুমকি: একটি আস্ত সভ্যতাকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়ার ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বৈশ্বিকভাবে নিন্দিত হয়েছে এবং মার্কিনিদের একাংশ একে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

  • কর্তৃত্ববাদ: ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত আইন ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।

কংগ্রেসে বাড়ছে চাপ

ইতিমধ্যেই ডজনখানেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের অপসারণ চেয়ে নথিপত্র তৈরি শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্প পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করে বিশ্বকে ‘বিপদের কিনারায়’ নিয়ে এসেছেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তাঁদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, এই দুই সপ্তাহ কেবল ট্রাম্পের একটি কৌশল মাত্র, যা বড় কোনো বিপর্যয় রোধে সক্ষম নয়।

২৫তম সংশোধনী বা অভিশংসন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে সরাতে ডেমোক্র্যাটরা দুটি পথ বেছে নিতে পারেন। একটি হলো সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে মন্ত্রিসভা কর্তৃক তাঁকে ‘অক্ষম’ ঘোষণা করা, আর অন্যটি হলো কংগ্রেসে অভিশংসন (Impeachment) প্রক্রিয়া শুরু করা। তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত অনেক এলাকায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট থাকায় এই প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category