খাদ্য উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য সত্ত্বেও সংরক্ষণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশে। খেত থেকে ভোক্তার খাবার টেবিল পর্যন্ত পৌঁছার মধ্যবর্তী বিভিন্ন ধাপে সঠিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে শাকসবজি ও ফলমূলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আলু ও টমেটোর মতো অপরিহার্য খাদ্যপণ্যের ৩০ শতাংশেরও বেশি সংগ্রহ-পরবর্তী সময়ে নষ্ট হয়ে যায়। কেবল পচনশীল শাকসবজিই নয়, দেশের প্রধান দানাদার খাদ্যশস্য ধানের ক্ষেত্রেও উৎপাদন-পরবর্তী বিভিন্ন ধাপে গড়ে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ অপচয় বা ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে পুষ্টির অন্যতম বড় উৎস মাছের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির হার প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকছে। বৈশ্বিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার তুলনায় বাংলাদেশে সংগ্রহ-পরবর্তী এই ক্ষতি বা পোস্ট হারভেস্ট লস অস্বাভাবিক রকম বেশি। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, কোল্ড চেইন সুবিধার চরম সংকট, সনাতন পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির কারণে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হওয়ায় একদিকে কৃষকরা তাদের শ্রমের উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের সার্বিক খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে দেশের সার্বিক কৃষি পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ডক্টর খোন্দকার মোহাম্মদ ইফতেখারুদ্দৌলা। বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশে পরিচালিত একাধিক গবেষণার ফলাফল সমন্বয় করে উপস্থাপিত প্রবন্ধে তিনি দেখান, দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদন সন্তোষজনক হারে বাড়লেও সংগ্রহ-পরবর্তী দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে খাদ্যনিরাপত্তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে আলু উত্তোলনের পর থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ক্ষতির হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে টমেটোর ক্ষেত্রে এই ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি, যা প্রায় ২৮ থেকে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ কেজি আলু বা টমেটোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভোক্তাদের পাতে পৌঁছার আগেই পচে গলে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের ক্ষেত্রে ক্ষতির শতকরা হার সবজির চেয়ে কম মনে হলেও সামগ্রিক উৎপাদনের বিশাল পরিমাণের কারণে এর আর্থিক ও খাদ্যের পরিমাণগত ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আউশ, আমন ও বোরো—এই তিন প্রধান মৌসুমে ধানের গড়ে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ নষ্ট হয়। মৌসুমভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আউশ মৌসুমে ধানের মোট অপচয় বা ক্ষতির হার ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ, আমন মৌসুমে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সবচেয়ে বড় ধান উৎপাদনের মৌসুম বোরোতে এই হার ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ। উৎপাদন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপেই ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বোরো ধানের বিস্তারিত ধাপভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, ধান কাটার ঠিক আগের প্রাক-সংগ্রহ পর্যায়ে দশমিক ৩৭ শতাংশ ক্ষতি হয়। খেত থেকে ধান কাটার সময় নষ্ট হয় ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, কাটার পর মাঠে স্তূপ করে ফেলে রাখার সময় দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং মাঠ থেকে বাড়ি বা খলায় পরিবহনের সময় ক্ষতি হয় দশমিক ৫৩ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি ধান নষ্ট হয় পরবর্তী দুটি ধাপে। সনাতন পদ্ধতিতে মাড়াই করার সময় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং রোদে শুকানোর সময় ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ ধান নষ্ট হয়। এর বাইরে বাতাসে উড়িয়ে ধান পরিষ্কার করার সময় আরও দশমিক ৩৯ শতাংশ অপচয় ঘটে।
আলু, টমেটো ও ধানের বাইরে অন্যান্য প্রচলিত শাকসবজি ও দেশীয় ফলের ক্ষেত্রেও অপচয়ের চিত্রটি অত্যন্ত হতাশাজনক। গবেষণাপত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে কলা উৎপাদনের পর সংগ্রহ থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। কোনো কোনো বিশেষায়িত গবেষণায় কলার গড় ক্ষতি ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মৌসুমি ফল আমের ক্ষেত্রে ক্ষতির হার ২৭ দশমিক ২ থেকে ৩৭ শতাংশ। পুষ্টিকর ফল পেঁপের ক্ষেত্রে ৩৯ দশমিক ৯ থেকে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আনারসের ক্ষেত্রে প্রায় ৪৩ শতাংশ অপচয় রেকর্ড করা হয়েছে। শীতকালীন সবজি ফুলকপিতে ক্ষতির হার ২২ থেকে ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গোল বেগুনে ২০ দশমিক ৪ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। সামগ্রিকভাবে দেশের ফল ও সবজি খাতে সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় বা ক্ষতির গড় হার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে, যা বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
অথচ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন কোনো অংশেই কম নয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮০ হাজার টন আলু এবং ৬২ লাখ ৮০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদিত হয়েছে। এই বিপুল উৎপাদনের পেছনে কোটি কোটি প্রান্তিক কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনি ও বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু উৎপাদনস্থলের মাঠ থেকে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, উপযুক্ত হিমায়িত পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞানসম্মত বাজারজাতকরণ শৃঙ্খলের অভাবে এই বিপুল উৎপাদনের একটি বড় অংশ মাঠেই কিংবা পাইকারি আড়তেই পচে নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যার দায়ভার সাধারণ ভোক্তাকে বহন করতে হয়। অথচ কৃষক তার হাড়ভাঙা শ্রমের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক অবকাঠামো ও কোল্ড চেইনের অনুপস্থিতিই এই অপচয়ের প্রধান কারণ। ডক্টর খোন্দকার মোহাম্মদ ইফতেখারুদ্দৌলা এ প্রসঙ্গে জানান, একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার এখনো সীমিত। বিশেষ করে ফসল তোলার পর তা দ্রুত ঠান্ডা করার আধুনিক প্রিকুলিং প্রযুক্তি বা কোল্ড চেইন সুবিধার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে এখনো ফসল তোলা, বাছাই ও প্যাকেটজাতকরণের প্রায় প্রতিটি কাজই সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়। এর পাশাপাশি শহর ও মফস্বলের হাটবাজারে রোদের তীব্র উত্তাপের মধ্যে খোলা ভ্যানে শাকসবজি, ফলমূল ও মাছ রেখে বিক্রি করা হয়, যা দ্রুত পচনের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে দেশের হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় যেমন ধান নষ্ট হয়, তেমনি ফসল কেটে আনার পর টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে বা উঠানে স্তূপ করে রাখা ধান পচে যাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। এ ধরনের অপচয় রোধ করতে হলে আধুনিক শুকানোর যন্ত্র বা ড্রায়ার এবং কোল্ড চেইন নেটওয়ার্ক প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
শাকসবজি ও খাদ্যশস্যের মতোই প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস মাছের সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় দেশের পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপস্থাপিত তথ্যমতে, বাংলাদেশে আহরিত মাছের প্রায় ২২ থেকে ২৫ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে নষ্ট বা অপচয় হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের ক্ষেত্রে সরাসরি শারীরিক বা দৃশ্যমান ক্ষতির হার দশমিক ৮২ শতাংশ হলেও গুণগত মান পড়ে যাওয়ার কারণে বাজারমূল্যজনিত ক্ষতি দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নদ-নদী ও খালের ছোট দেশীয় মাছ, যার ক্ষতির হার ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে চাষ হওয়া কার্পজাতীয় রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির হার ১৮ দশমিক ২ শতাংশ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইয়ামিন হোসেন এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বে মাছের সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় বা ক্ষতি ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে বাংলাদেশে এই হার ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানো অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি উল্লেখ করেন, মাছ ধরার সনাতন জালের ব্যবহার এবং অসচেতনতার কারণে মাছের গায়ে আঘাত লাগার মধ্য দিয়েই ক্ষতির প্রক্রিয়া শুরু হয়। জেলেরা মাছের দেহে আঘাত না লাগিয়ে কীভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ ধরতে হয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন। এছাড়া মাছ তোলার পর পর্যাপ্ত বরফ না দেওয়া, অস্বাস্থ্যকর উপায়ে পরিবহন, বাজারে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা এবং পরবর্তীতে রান্না ও খাবার টেবিলে অপচয়ের কারণে এই ক্ষতির বোঝা দিন দিন বাড়ছে। মাছের গুণগত মান ও পুষ্টিমান রক্ষা করতে হলে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং নৌবন্দর থেকে বাজার পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন কোল্ড চেইন অবকাঠামো গড়ে তোলা একান্ত অপরিহার্য।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৩ সালের এক বিশেষ মূল্যায়নেও বাংলাদেশের সংগ্রহ-পরবর্তী এই ব্যাপক অপচয়ের বিষয়টি বিশ্ববাসীর নজরে আসে। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাংলাদেশে উৎপাদিত আলুর ২৫ শতাংশের বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। আমের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির হার ৩০ শতাংশ, পেঁয়াজে ২৫ শতাংশের বেশি এবং টমেটোর ক্ষেত্রে ক্ষতি প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, খাদ্য অপচয় রোধ করা মূলত উৎপাদন বাড়ানোর চেয়েও অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর কৌশল। কিন্তু শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই এই সমস্যার টেকসই সমাধান আসবে না। দেশের সাধারণ কৃষকের আর্থিক সংগতি ও ব্যবহারিক উপযোগিতা বিবেচনা না করে যদি অত্যন্ত ব্যয়বহুল উচ্চপ্রযুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রান্তিক কৃষকরা তা গ্রহণ করতে পারবে না।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, সামগ্রিকভাবে কৃষিক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। শাকসবজি ও ফলমূলের মতো পচনশীল পণ্যে এই ক্ষতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। দেশে এখনো কুলিং সিস্টেম, আধুনিক হিমাগার ও স্টোরেজ সুবিধার বড় সংকট রয়েছে। তবে এই অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কৃষকের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। অতিরিক্ত ব্যয়বহুল প্রযুক্তি কৃষকের ওপর চাপিয়ে দিলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে, যা বাজারদরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি উপযোগী, সহজ ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের মতে, সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতি যদি বর্তমান পর্যায় থেকে কমিয়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা যায়, তবে কোনো বাড়তি জমি বা সার-বীজ ব্যবহার না করেই দেশের বিশাল খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্যের পুষ্টিগুণ রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাসে এখন স্বাস্থ্যসচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, তারা ভাতের পাশাপাশি পুষ্টিকর শাকসবজি ও ফলমূলের দিকে ঝুঁকছে। তাই কৃষি পরিকল্পনাকে নতুন রূপ দিয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের অপচয় শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সুরক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোন মৌসুমে কোন ফসলের কতটা চাহিদা রয়েছে, তা আগেই নির্ধারণ করে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে সরবরাহ ও দামের ভারসাম্য বজায় থাকবে। সেই সঙ্গে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনকে দ্রুত কাজে লাগিয়ে কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করার তাগিদ দেন তিনি।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা