মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সমীকরণ এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। এতদিন গাজায় যে ধ্বংসলীলা ও কান্নার রোল বিশ্ববাসী দেখেছে, আজ যেন সেই একই আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে খোদ ইসরায়েলের মাটিতে। আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসা ইরানি ব্যালিস্টিক ও হাইপারসোনিক মিসাইলের আঘাতে কেঁপে উঠছে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও কৌশলগত স্থাপনা। তেল আবিব থেকে হাইফা—সর্বত্র অবিরাম বাজছে সাইরেনের তীক্ষ্ণ আর্তনাদ। প্রাণ বাঁচাতে সাধারণ ইসরায়েলিদের এখন অন্ধকার বাংকারে গিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মিসাইলের আঘাতে ধসে পড়া ভবনের কংক্রিটের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে, যা ইসরায়েলি নাগরিকদের মনে চরম হতাশা ও মরণভয়ের জন্ম দিয়েছে।
ইসরায়েলের গর্বের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ এই বিপুল ও সমন্বিত মিসাইল হামলার সামনে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে কাতারে অবস্থিত আমেরিকার প্রধান ও অত্যাধুনিক আর্লি ওয়ার্নিং রাডার (AN/FPS-132) ইরানি হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর। আগাম তথ্য পাওয়ার বিলিয়ন ডলারের এই ব্যবস্থাটি অকেজো হয়ে পড়ায় ইরানের ফাত্তাহ ও খাইবার শেকানের মতো মিসাইলগুলো চোখের পলকে ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হানছে। সমর বিশ্লেষকদের মতে, রাডার ধ্বংসের এই ঘটনা ইসরায়েল ও আমেরিকার নিশ্ছিদ্র প্রতিরক্ষা বলয়ের অহংকার ভেঙে দিয়েছে এবং তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এই মহাবিপর্যয়ের মুখে খোদ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মাটির গভীরের অত্যন্ত সুরক্ষিত বাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। পুরো দেশ যখন চরম আতঙ্কের মুখে, তখন বাংকারের নিরাপদ আড়াল থেকেই তিনি ভিডিও বার্তায় ইরানকে কড়া ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন এবং শাসনব্যবস্থা পতনের ফাঁকা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন। তবে বিপদের দিনে প্রধান মিত্র আমেরিকার বর্তমান পদক্ষেপ ইসরায়েলিদের হতাশা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দেশে ফেরার নির্দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনীর সতর্ক অবস্থান প্রমাণ করছে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সামরিক ধ্বংসস্তূপ থেকে তোলা প্রতিটি মরদেহ আজ এই বার্তাই দিচ্ছে যে, গাজার বুকে চালানো অবিচারের পর এই যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর জন্যও এক ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে।