২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোতে যাতায়াত, আবাসন এবং উচ্চ করের কারণে দলগুলোর অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রাইজমানি ও অংশগ্রহণ ফি আরও বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠেয় ফিফা কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই বর্ধিত তহবিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
অস্বাভাবিক ব্যয় ও দলগুলোর উদ্বেগ
এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। আয়োজক দেশগুলোর বিশাল বিস্তৃতির কারণে যাতায়াত ও অন্যান্য অপারেশনাল খরচ অনেক বেশি। এর আগে বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, বিশেষ করে ইউরোপীয় বড় দলগুলো ফিফার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল যে, টুর্নামেন্টের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছালেও উচ্চ কর ও ব্যয়ের কারণে দিন শেষে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তারা।
উচ্চ করের বাধা
যুক্তরাষ্ট্রে একেক অঙ্গরাজ্যে করের হার ভিন্ন। ফিফা আয়োজক হিসেবে নিজেদের জন্য করছাড়ের সুবিধা পেলেও, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে দলগুলোকে তাদের আয়ের ওপর বড় অঙ্কের ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। এই ট্যাক্সের ধাক্কা সামলাতেই মূলত প্রাইজমানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফিফার লক্ষ্যমাত্রা ও প্রতিশ্রুতি
প্রাইজমানি বাড়ানোর বিষয়ে ফিফার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ২৮ এপ্রিলের ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকের আগেই লভ্যাংশ বা রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও জানান, “২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা প্রায় ১১ থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আমাদের এই শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের সুফল সরাসরি সদস্য দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
বাড়ছে উন্নয়ন তহবিলও
শুধু প্রাইজমানিই নয়, বিশ্বকাপের বিশাল আয় থেকে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের জন্য বরাদ্দকৃত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ বা উন্নয়ন তহবিলও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। এর ফলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পাশাপাশি অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ফুটবল অবকাঠামোও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।