প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতির কবলে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬.১৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকার কারণে এবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)-এর তদন্তের তালিকায় নাম উঠেছে বাংলাদেশের। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারার অধীনে শুরু হওয়া এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো—সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘উদ্বৃত্ত উৎপাদন’ মার্কিন বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার বস্ত্র ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৪৩টি খাতে যে নগদ রফতানি প্রণোদনা দেয়, তা মার্কিন বাজারের জন্য এক ধরনের ‘অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক’ চর্চা। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্পষ্ট করেছেন যে, অন্যান্য দেশের অতিরিক্ত সক্ষমতার বোঝা যুক্তরাষ্ট্র আর নিজের কাঁধে নেবে না। এই তদন্তের ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর বিশেষ শুল্ক বা বিধিনিষেধ আসার ঝুঁকি তৈরি হলো।
ইউএসটিআর-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সিমেন্ট খাতের মন্দাকে উদাহরণ হিসেবে টানা হয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সিমেন্ট খাতের উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে, যা ২০২৫ সালে আরও কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই ধরণের বিশাল ‘অতিরিক্ত সক্ষমতা’ বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হলো উৎপাদন খাতের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা। ফলে যারা যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ ১৬টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে এই তদন্ত মূলত বিশ্বজুড়ে মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরুদ্ধারের একটি বড় পদক্ষেপ।
| তদন্তের বিষয় | বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও তথ্য |
|---|---|
| বাণিজ্য উদ্বৃত্ত | যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬.১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বাণিজ্য উদ্বৃত্ত। |
| মূল খাত (টেক্সটাইল) | রফতানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তাকে ‘অযৌক্তিক’ চর্চা হিসেবে দেখা হচ্ছে। |
| সিমেন্ট খাত | মোট সক্ষমতার মাত্র ৪০% ব্যবহৃত হচ্ছে; বিশাল উদ্বৃত্ত সক্ষমতার নিদর্শন। |
| তদন্তের আইন | ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(খ) ধারা। |