• শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন

শ্রমবাজার বহুমুখী করছে দক্ষিণ এশিয়া: সৌদিনির্ভরতায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বের শ্রমবাজারে যখন গভীর কাঠামোগত রূপান্তর ঘটছে এবং বিভিন্ন দেশ প্রচলিত গন্তব্যের বাইরে উচ্চ আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, তখন বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত এখনো মধ্যপ্রাচ্যের গুটিকয়েক দেশের বৃত্তে পুরোপুরি বন্দি হয়ে আছে| বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক তত্পরতা ও মানসম্মত কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও উন্নত বিশ্বের শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে, তখন বাংলাদেশ এখনো মূলত সৌদি আরবের ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল| প্রচলিত বাজারগুলোতে কর্মী পাঠানোর চিরাচরিত ধারা বজায় থাকলেও সেখানে সম্ভাবনার পুরো সদ্ব্যবহার করা যাচ্ছে না, বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো পুনরায় চালু করতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং নতুন কোনো সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না| এর ফলে গোটা অভিবাসন খাত যেমন একক ভৌগোলিক বলয়ের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দক্ষ জনশক্তির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশ মূলত নামমাত্র মূল্যে অদক্ষ কর্মী রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকছে|

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের এই বৈপরীত্য সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে পূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে| সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের মে মাসে জাপান সফরের সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেবে টোকিও| কিন্তু সেই উচ্চাভিলাষী ঘোষণার পর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে| ওই বছর বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন মাত্র ১ হাজার ৫৬৪ জন কর্মী| আর চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত এই সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭৪৮ জনে| অথচ একই সময়ে ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের প্রতিবেশী দেশ নেপাল একাই জাপানে পাঠিয়েছে ২২ হাজার ২৬৬ জন কর্মী| ঠিক একই চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে প্রযুক্তি ও উৎপাদনের আরেক বৃহৎ কেন্দ্র দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও| চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী গেছেন মাত্র ১ হাজার ৯০১ জন, অথচ নেপাল এই একই সময়ে পাঠিয়েছে ৯ হাজার ৭৮ জন| সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, খোদ রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অত্যাধুনিক বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকার পরও কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা ও সুনির্দিষ্ট কাজের দক্ষতায় পিছিয়ে থাকায় বিপুল এই সুযোগ হাতছাড়া করছে দেশ|

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই অতিমাত্রিক সৌদি-নির্ভরতার এক বিপজ্জনক চিত্র ফুটে ওঠে| বিগত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন| অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই বিশাল জনশক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জনই গেছেন একক দেশ হিসেবে সৌদি আরবে| বাকিদের মধ্যে কাতারে গেছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন, কুয়েতে ৪২ হাজার ৭৪৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩ হাজার ৭৫০ জন এবং বিশ্বের অন্যান্য সব দেশ মিলিয়ে সর্বমোট গেছেন মাত্র ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২২ জন| চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে যাওয়া ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৮ জন কর্মীর মধ্যেও ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৪৩ জনই গেছেন সৌদি আরবে| বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরও নতুন কোনো আকর্ষণীয় বৈশ্বিক শ্রমবাজারের দ্বার উন্মোচন করতে পারেনি| তবে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে পুনরায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে| ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ ছিল, অথচ এই নিষেধাজ্ঞা আসার ঠিক আগের বছর ২০২৩ সালে একাই মালয়েশিয়ায় রেকর্ড ৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন কর্মী গিয়েছিলেন|

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই চরম পশ্চাৎপদতার মূল কারণ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দূরদর্শিতার অভাব এবং কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে বৈশ্বিক চাহিদার সুস্পষ্ট অসঙ্গতি| দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বহু কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) গড়ে উঠলেও সেগুলোর পাঠ্যক্রম ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি আধুনিক আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়| এমনকি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বিদেশে দক্ষ কর্মসংস্থানের উপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি কোর্সের চরম ঘাটতি রয়েছে| জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম অনুবিভাগের প্রথম সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, জাপানের নির্ধারিত পরীক্ষায় কৃষি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের পাসের হার কিছুটা সন্তোষজনক হলেও ড্রাইভিং, আধুনিক নির্মাণশিল্প ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে পাসের হার অত্যন্ত হতাশাজনক| এছাড়া প্রাথমিক ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা ‘জেএফটি বেসিক’-এ বাংলাদেশিদের পাসের হার মাত্র ৩০ শতাংশের কোঠায় সীমাবদ্ধ| দূতাবাস ২০৩০ সালের মধ্যে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য অর্জনে একটি নতুন রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করলেও মাঠপর্যায়ে গুণগত ভাষা ও কাজের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না হলে এই লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে|

বাংলাদেশের এই স্থবিরতার বিপরীতে নেপালের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কৌশল এক চমৎকার সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে| নেপাল সরকারের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে তাদের মোট ৪ লাখ ৬ হাজার ৪০৪ জন অভিবাসী কর্মীর প্রায় অর্ধেক বা ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশই গেছেন উপসাগরীয় প্রধান চার দেশের বাইরে| দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় শ্রমবাজার গড়ে তোলা দেশটি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৯৪ হাজার ১৯০ জন, সৌদি আরবে ৫০ হাজার ২৭২ জন, কাতারে ৩৯ হাজার ১২৫ জন এবং কুয়েতে ২৫ হাজার ৫৬৫ জন কর্মী গেলেও তাদের নতুন বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশ| নেপাল থেকে রোমানিয়ায় ২৭ হাজার ১৬০ জন, সাইপ্রাসে ১১ হাজার ৬৯ জন, মৌরিতানিয়ায় ৬ হাজার ১৩৪ জন, তুরস্কে ৬ হাজার ১০০ জন কর্মী যাওয়ার পাশাপাশি পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়মিত কর্মী যাচ্ছে| আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্যমতে, নেপাল ইতিমধ্যে কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, বাহরাইন, জর্ডান, মালয়েশিয়া, জাপান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও রোমানিয়াসহ ১২টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শ্রম চুক্তি স্বাক্ষর করেছে| এছাড়া আলবেনিয়া, পোল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়াসহ আরও ১৬টি দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি সম্পাদনের জোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি|

আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের কৌশলও মধ্যপ্রাচ্যের চিরাচরিত নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির দিকে সফলভাবে মোড় নিয়েছে| দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছর বিদেশে যাওয়া ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১০৮ জন কর্মীর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ লাখ ৬৮৫ জন এবং সৌদি আরবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন গেলেও বাকিরা ছড়িয়ে পড়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে| ভারত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ডেনমার্ক, জাপান, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ৭টি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) সমঝোতা চুক্তি কার্যকর করেছে| ফ্রান্সের সঙ্গেও এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত| একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও ইসরায়েলসহ ৮টি দেশের সঙ্গে অভিবাসন অংশীদারত্ব চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি আন্তর্জাতিক চাহিদামতো কর্মী তৈরি করছে ভারত| ফলে তাদের কর্মীরা বিদেশের মাটিতে গিয়ে উচ্চ মজুরির পেশায় নিয়োজিত হতে পারছেন|

এমনকি তীব্র অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে থাকা পাকিস্তানও তাদের শ্রমবাজার বহুমুখীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে| দেশটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিদেশে যাওয়া ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫২৬ জন কর্মীর মধ্যে বড় অংশ সৌদি আরবে গেলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী গেছেন যুক্তরাজ্যে ৪ হাজার ৩৫৫ জন, তুরস্কে ৫ হাজার ২৮৮ জন, গ্রিসে ৩ হাজার ৩৬৭ জন, সাইপ্রাসে ২ হাজার ৩৯৩ জন, জাপানে ২ হাজার ২৪৪ জন, চীনে ২ হাজার ২৩০ জন, রোমানিয়ায় ১ হাজার ১০৯ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৫ জন| একই সাথে শ্রীলঙ্কা প্রমাণ করেছে কীভাবে একক দেশের ওপর নির্ভরশীলতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়| তাদের ৩ লাখ ১১ হাজার ২২৩ জন অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন মাত্র ৩৬ হাজার ৪৪১ জন, যা তাদের মোট জনশক্তির মাত্র ১১ শতাংশের কাছাকাছি| দেশটির সিংহভাগ কর্মী কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, জাপান ও ফিজির মতো অপ্রচলিত বাজারে কাজের সুযোগ পেয়েছেন| দেশটির অভিবাসন নীতির আওতায় ‘স্কিল পাসপোর্ট’ ব্যবস্থা চালু করে আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়েছে|

বাংলাদেশের এই একদেশকেন্দ্রিক ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ এক দশক আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন গবেষকরা| নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টاডিজের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার উল্লেখ করেন যে, মাত্র কয়েকটি দেশের ওপর সম্পূর্ণ বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে দাঁড় করিয়ে রাখা কোনো টেকসই অর্থনৈতিক কৌশল হতে পারে না| সাময়িকভাবে কর্মী পাঠিয়ে হয়তো বেকারত্বের পরিসংখ্যান আড়াল করা যায় কিংবা রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ানো যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ডেকে আনছে| ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনবলের অভাবে আমরা সেখানে লোক পাঠাতে পারছি না| ভারত বা শ্রীলঙ্কার মতো পরিকল্পিতভাবে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশকে কাজের জন্য বিদেশি সরকারগুলোর পেছনে দৌড়াতে হতো না, বরং আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তারাই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিত|

বিশ্ব ভূ-রাজনীতি ও সংঘাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে এই ঝুঁকি আরও তীব্রভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী| তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্বজুড়ে রক্ষণশীল পপুলিস্ট রাজনীতির উত্থানের ফলে ভূ-রাজনৈতিক সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে| এমন উত্তেজনাকর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে যেকোনো আঞ্চলিক সংঘাত বা জরুরি অবস্থায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হন আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা| সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের সাম্প্রতিক অতর্কিত হামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিদেশের মাটিতে প্রবাসীদের অমূল্য জীবন বিপন্ন হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন এবং দেশ থেকে নতুন কর্মী যাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে| তাই কালবিলম্ব না করে শ্রমবাজারের দ্রুত বহুমুখীকরণ ও বিকল্প নিরাপদ বাজার সৃষ্টি করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ| এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও একদেশনির্ভরতা দূর করতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে দেশের সার্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক আয়ের মূল ভিত্তি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে| তবে এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি|

তথ্যসূত্র” বণিক বার্তা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category