• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
সমাজ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির শেখ হাসিনা, বেনজীরসহ ৩০ পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ মিটারের ডিজিটাল ভোজবাজি: প্রথম রিচার্জেই কেন উধাও হয় আপনার টাকা? ধুলোর আস্তরণে ঢাকা সোয়া শ কোটি টাকার স্বপ্ন: চুয়েটে আইটি ইনকিউবেটরের করুণ পরিণতি অভ্যন্তরীণ সংকটে ধুঁকছে দেশীয় পোশাক খাত: সুপরিকল্পিত প্রণোদনায় বাজার ধরছে প্রতিবেশী ভারত কাশির ওষুধের আড়ালে মাদকের ছায়া: ডেক্সট্রোমেথরফেন নিয়ে দেশে নতুন শঙ্কা মেট্রোরেলের মেগা ধাক্কা: হু হু করে বাড়ছে জাপানি ঋণের সুদ ও প্রকল্প ব্যয়

আওয়ামী লীগের মেগা প্রকল্পে কাটছাঁট: কমছে অপচয়, বাঁচবে সরকারি কোষাগার

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিগত সরকারের আমলে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং কোনো ধরনের বাস্তবসম্মত যৌক্তিকতা ছাড়াই গ্রহণ করা একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে এবার বড় ধরনের কাটছাঁটের জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধ করতে এবং জনকল্যাণমূলক কাজের গতি বাড়াতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। চলমান প্রকল্প এবং এখনো অনুমোদন পায়নি এমন নতুন প্রকল্পের এক বিশাল তালিকা ধরে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন সূত্র থেকে জানা যায়, মোট দুই হাজার ৩৭২টি প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৭টি প্রকল্পের আওতা ও উদ্দেশ্য নতুন করে নির্ধারণ বা রিস্কোপিং এবং রিপারপাসিং করার একটি বিশদ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ২০৯টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প পুরোপুরি বাদ দেওয়া বা কমিয়ে আনার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। এর বাইরেও চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ২৭০টি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সেক্টরভিত্তিক এক বিশদ প্রতিবেদন থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এই বিশেষ প্রতিবেদনটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সম্মানিত সদস্য ড. নেয়ামত উল্লা ভূঁইয়া। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক সচিব জানিয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় এবং জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রকল্পই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া যেসব প্রকল্প থেকে দেশের সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই উপকৃত হবে না, কেবল সেসব প্রকল্পই বাতিলের খাতায় ফেলা হচ্ছে। অনেক প্রকল্প এমন রয়েছে যেগুলো কাগজে-কলমে অনুমোদন পেলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এসব প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা মাঠে গিয়ে যাচাই করে তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিগত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের (শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল ও শেখ রেহানা) নামে অন্তত ৮২টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব প্রকল্পের মধ্যে ৩৮টির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হলেও প্রায় ৪০টি প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে, যেগুলো এখন কড়া নজরদারির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে এগুলোর নাম বা ধরন পরিবর্তন করা হতে পারে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একনেক সভায় চলমান প্রকল্পগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প চিহ্নিত করা, কোনো প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয়ের সুযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা এবং প্রকল্পগুলো আসলেই জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে কি না, এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গত ১৮ জুন পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাঠানো হয়। পহেলা আগস্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করে সাত আগস্টের মধ্যে এসব প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারণ করতে বলা হয়েছিল। এই ব্যাপক যাচাই-বাছাইয়ের পর চারটি প্রধান সেক্টরের যে চিত্র পাওয়া গেছে তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে বর্তমানে চলমান ৩৪৮টি এবং অননুমোদিত নতুন ২৮৫টিসহ মোট ৬৩৩টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে ১২০টি প্রকল্পে রিস্কোপিং ও রিপারপাসিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সম্ভাব্য সমাপ্য প্রকল্প ধরা হয়েছে ৭৯টি এবং একেবারে বাদ পড়তে পারে ৯টি প্রকল্প। ভৌত অবকাঠামো বিভাগে চলমান ৩৭৯টি ও অননুমোদিত নতুন ৫৫২টিসহ মোট ৯৩১টি প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে ১১০টি প্রকল্পে রিস্কোপিং ও রিপারপাসিংয়ের কাজ চলবে। এই বিভাগ থেকে সম্ভাব্য সমাপ্য প্রকল্প ১৯টি এবং প্রকল্প কমতে পারে ৬১টি। আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগে চলমান ২৯৫টি ও অননুমোদিত নতুন ৩২২টিসহ মোট ৬১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৮০টিতে রিস্কোপিং ও রিপারপাসিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে সমাপ্য প্রকল্প ৬৯টি এবং কমতে পারে ৬৬টি প্রকল্প। শিল্প ও শক্তি বিভাগে চলমান ১১৮টি এবং নতুন ১১৫টিসহ মোট ২৩৩টি প্রকল্পের মধ্যে ২৭টিতে রিস্কোপিং হবে, ২৩টি শেষ হতে পারে এবং ২৭টি চিরতরে বাদ পড়তে পারে। সব মিলিয়ে এই চার সেক্টরের মোট দুই হাজার ৩৭২টি প্রকল্পের ভাগ্য এখন নতুনভাবে নির্ধারিত হচ্ছে।
প্রকল্প কাটছাঁটের এই মহতি উদ্যোগের পাশাপাশি এর বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও খোলামেলাভাবে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। একাধিক ছোট প্রকল্প একীভূত করে একটি বড় ও সমন্বিত প্রকল্প তৈরি করা হলে সেই নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে অতিরিক্ত সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যমান জনবল কাঠামো পরিবর্তনেরও প্রয়োজন পড়বে। এছাড়া বাতিল বা বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলোর অডিট আপত্তি ও অন্যান্য আইনি দায়ভার নতুন প্রকল্পের পরিচালকের ঘাড়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। রিস্কোপিংয়ের ফলে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি পরিবর্তিত হয়, তবে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। প্রকল্পের আকার বাড়লে এক অর্থবছরে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার সক্ষমতাও আনুপাতিক হারে বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলো একীভূত করলে আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিশন। অন্যদিকে, চলমান প্রকল্পগুলো যেহেতু পুরনো রেট শিডিউল অনুযায়ী তৈরি হয়েছিল, তাই এখন হালনাগাদ রেট শিডিউল অনুসরণ করতে গেলে ব্যয় অনেকটা বেড়ে যাবে, যা মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর সীমাকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া আইবাস++, এএমএস, পিপিএস ও ই-পিআইএমএসের মতো সফটওয়্যারগুলোতে প্রকল্পের এত বিশাল তথ্য হালনাগাদ করতেও বেশ দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
এসব বিষয়ে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদের বক্তব্য অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। তিনি মনে করেন, প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা মাঠে গিয়ে সরেজমিনে যাচাই করা একান্ত দরকার। কারণ যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের আগেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে যদি অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে, তবে তা বাতিলের মাধ্যমে সেই অর্থের বড় ধরনের অপচয় হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি সত্যিই প্রমাণিত হয় যে কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল না, তবে কেবল সেই প্রকল্পটি বাতিল করলেই চলবে না। যারা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে এমন ভিত্তিহীন ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, দেশের অর্থের অপচয়ের দায়ে তাদেরও কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে তিনি দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেন।
তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category