ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সম্পর্কে তথ্য পেতে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মসূচি ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (Rewards for Justice)-এর আওতায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং ইরানের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পর যখন ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, ঠিক সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন।
যাদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে: মার্কিন বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে বেশ কয়েকজন শীর্ষ ইরানি নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন:
মোজতবা খামেনি: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা।
আলি আসগর হেজাজি: ডেপুটি চিফ অব স্টাফ।
মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি: সামরিক উপদেষ্টা।
আলি লারিজানি: উপদেষ্টা।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসকান্দার মোমেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইসমাইল খাতিব: গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রী।
এর বাইরেও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর চারজন কর্মকর্তার তথ্য চাওয়া হয়েছে, যাদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এই তালিকায় রয়েছেন—প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব, সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের সামরিক প্রধান এবং আইআরজিসির একজন কমান্ডার।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও আইআরজিসি’র প্রভাব: মার্কিন বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেতারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের পরিকল্পনা, সংগঠন এবং তা বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানায়, ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইআরজিসি ইরানের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে এই শক্তিশালী বাহিনীটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাবশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতির একটি বিশাল অংশও নিয়ন্ত্রণ করছে।
তথ্যদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া অনুরূপ এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কেবল আর্থিক পুরস্কারই নয়, এই নেতাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ‘স্থানান্তরের (Relocation) যোগ্য’ হিসেবেও বিবেচনা করা হতে পারে।