যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার পারদ আরও চড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত ১৪ দিনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্তত ৫টি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদিতে বিধ্বস্ত ৫ বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের ‘প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস’-এ এই ৫টি বিমান বিধ্বস্ত হয়।
ক্ষয়ক্ষতি: এগুলো মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর রি-ফুয়েলিং (মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এগুলো বিধ্বস্ত হলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। এগুলো মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।
হতাহত: স্বস্তির বিষয় হলো, সৌদিতে ঘটা এই ৫টি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরাকে মর্মান্তিক পরিণতি সৌদিতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও, গত শুক্রবার ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘কেসি-১৩৫’ রি-ফুয়েলিং যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে বড় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
বিমানটিতে চালক ও সহ-চালকসহ মোট ৬ জন ক্রু ছিলেন।
এর মধ্যে ৪ জন নিহত হয়েছেন এবং বাকি ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যুদ্ধের নেপথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে রি-ফুয়েলিং বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে বর্তমান এই সংকটের শুরু মূলত ব্যর্থ কূটনৈতিক সংলাপ থেকে:
ব্যর্থ সংলাপ: ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপ চলে। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা ভেস্তে যায়।
যৌথ সামরিক অভিযান: সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরদিনই, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে হামলা চালায়।
ইরানের প্রতিশোধ: এই হামলার কড়া জবাব দিচ্ছে তেহরান। ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি উপসাগরীয় দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে টানা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।