যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরালো করতে জাপান থেকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা এবং শক্তিশালী উভচর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মোতায়েন করা বাহিনীর বিস্তারিত তথ্য
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অনুমোদনে এই বিশাল সামরিক বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। এই বহরের মূল শক্তিগুলো হলো:
৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (31st MEU): জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত এই স্পেশাল ইউনিটের প্রায় ২,২০০ থেকে ২,৫০০ জন চৌকস মেরিন সেনা ও নাবিক এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন।
ইউএসএস ত্রিপোলি (LHA-7): জাপানের নাগাসাকিতে অবস্থানরত এই ‘আমেরিকা-ক্লাস’ উভচর যুদ্ধজাহাজটি অনেকটা ছোট আকারের বিমানবাহী রণতরীর মতো কাজ করে।
যুদ্ধ সরঞ্জাম: এই সামরিক বহরে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি (F-35B) লাইটনিং-টু স্টিলথ ফাইটার জেট, এমভি-২২ অস্প্রে (MV-22 Osprey) এয়ারক্রাফট, অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং স্থল হামলার জন্য বিশেষ সাঁজোয়া যান।
সেনা মোতায়েনের পেছনের মূল কারণ
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই সেনা মোতায়েন মূলত একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর পেছনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষা: বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান সম্প্রতি এই প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। মার্কিন মেরিন ও যুদ্ধজাহাজের প্রধান লক্ষ্য হলো এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ সুরক্ষিত রাখা।
দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী (Rapid Response): যেকোনো আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় এই মেরিন ইউনিট বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। স্থল বা নৌঘাঁটির ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সমুদ্র থেকেই এরা আক্রমণ বা প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম।
দূতাবাস ও নাগরিকদের নিরাপত্তা: যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মার্কিন দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রয়োজনে যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার (evacuation) কাজে এই বাহিনী ব্যবহার করা হতে পারে।
স্থল অভিযানের আশঙ্কা কতটা?
যদিও প্রাথমিক সংবাদে মেরিন সেনাদের সরাসরি রণক্ষেত্রে নামার কথা বলা হয়েছে, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই সেনা মোতায়েনের মানেই এই নয় যে ইরানে কোনো তাৎক্ষণিক স্থল অভিযান (ground invasion) শুরু হতে যাচ্ছে। এটি মূলত একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ (precautionary step) যেন সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।
বর্তমান অবস্থান ও প্রেক্ষাপট
সামরিক স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে তাদের আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগতে পারে। এর আগে থেকেই ওই অঞ্চলে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’সহ বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নতুন এই বহর যুক্ত হলে তা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।