অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা প্রবাহ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরবাড়ি, যানবাহন ও ফসলি জমিতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটছে। গত শনিবার ১৮ বছর বয়সী এক ইহুদি তরুণের মৃত্যুর পর এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। কোয়াড বাইক চালানোর সময় এক ফিলিস্তিনির গাড়ির ধাক্কায় ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এই মৃত্যুর বদলা নিতে বসতি স্থাপনকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে প্রতিশোধের ডাক দেয়। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাতারাতি ২০টিরও বেশি হামলার খবর পাওয়া গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
জালুদ, কারিয়ুত এবং সিলাত আদ-দাহর সহ বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি সেনা ও সীমান্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ইসরায়েলি নাগরিকরা ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এমন খবরের ভিত্তিতে আইডিএফ এই পদক্ষেপ নেয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, জালুদ গ্রামে মাস্ক পরিহিত বহু লোক প্রবেশ করছে এবং সেখানে একাধিক যানবাহনে আগুন জ্বলছে ও ভবনের জানালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। একটি ভবনের দেয়ালে প্রতিশোধের বার্তা লেখা হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, জালুদে হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বসতি স্থাপনকারীদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে প্রতিশোধ এবং শত্রুদের নির্মূল করার বার্তা দেখা গেছে। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ঈদুল ফিতরের মধ্যে চালানো এই হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা দেইর আল-হাতাব গ্রামের কাছ থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ইতামার বসতির কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। পুলিশ উগ্রপন্থী সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘ইয়েশ দিন’ এই হামলাগুলোকে পরিকল্পিত তাণ্ডব হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এটি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। নিহত ইহুদি তরুণের জানাজায় ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন, যিনি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় বসতি স্থাপনকারীরা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। স্থানীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নাবলুসে একটি কার ওয়াশ সেন্টারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইইউ এবং যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেড়ে যাওয়া এই সহিংসতা থামাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ১৮ জন এবং বসতি স্থাপনকারীদের হাতে সাত জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার অধিকাংশই ঘটেছে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর।