মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি এবার আরও চরম রূপ ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে একযোগে তিন দেশে ভয়াবহ হামলার দাবি করেছে ইরান। রবিবার ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিশোধমূলক এই জোড়া হামলায় ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র এবং ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরকে ঘিরে চরম উত্তেজনার আভাস দিলেও, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির খবর নিশ্চিত করা হয়নি।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের নিক্ষেপ করা ‘ভারী ক্ষেপণাস্ত্র’ ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর তেল আবিবের শিল্পাঞ্চলে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হেনেছে। ইরানি বাহিনীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই শক্তিশালী হামলার পর পুরো শহরজুড়ে অবিরাম অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজতে শোনা গেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো তথ্য প্রকাশ না করলেও, হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির যে পরোক্ষ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, সেটিকে নিজেদের এই ভয়াবহ হামলার বড় ধরনের সাফল্য হিসেবেই দেখছে তেহরান।
কেবল ইসরায়েলই নয়, আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই প্রতিশোধের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও। আইআরজিসির দাবি, ইরাকের এরবিলে অবস্থিত ‘হারির’ বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতে মার্কিন সেনাদের শক্তিশালী অবস্থানস্থল ‘আলি আল সালেম’ ও ‘আরিফজান’ ঘাঁটিতে একযোগে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওই সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের এই এলিট ফোর্স।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার সত্যতা স্বীকার না করলেও, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আল-জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ইরান ও তার মিত্রদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক এবং পাল্টাপাল্টি হামলা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সর্বাত্মক ও বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার ফলে শুধু যে ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে তা নয়, বরং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও আছড়ে পড়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।