যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যে এবার রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মন্তব্য করেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত তেহরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে ‘কিঞ্চিৎ’ সহযোগিতা করছেন।
ট্রাম্পের দাবি ও ‘পাল্টা জবাব’ নীতি
শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কিয়েভকে সহায়তা করছে, পুতিনও হয়তো সেই একই ‘পাল্টা জবাব’ নীতি অনুসরণ করছেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার ধারণা প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানে ক্ষমতাসীনদের কিঞ্চিৎ সহযোগিতা করছেন। সম্ভবত তিনি মনে করেন—যেহেতু আমরা ইউক্রেনকে সহযোগিতা করছি, তাই তিনিও ইরানকে সহযোগিতা করতে পারেন। বিষয়টি অনেকটা ‘যেহেতু তারা করেছে, তাই আমরাও করব’ নীতির মতো।”
পেন্টাগনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সাম্প্রতিক একটি দাবি উল্লেখযোগ্য। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়া ইরানকে সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে।
অভিযোগ রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানের সুনির্দিষ্ট অবস্থানের তথ্য নিয়মিতভাবে তেহরানের হাতে তুলে দিচ্ছে মস্কো।
কীভাবে শুরু হলো এই যুদ্ধ?
ব্যর্থ সংলাপ ও সামরিক অভিযান: ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলা দীর্ঘ সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক একই সময়ে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েলও।
ইরানের পাল্টা হামলা: মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার কড়া জবাব দিচ্ছে ইরান। তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬টি দেশে (সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান) অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে চলেছে।