• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন

নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে মার্কিন যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা: পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে

Reporter Name / ১৫২ Time View
Update : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬

ভারত মহাসাগরের কৌশলগত দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা তাদের ভূখণ্ডকে কোনো পক্ষের সামরিক সংঘাতে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মার্চের শুরুতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের মত্তলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণ ও নোঙর করার একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে লঙ্কান সরকার। শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক জোরালো ভাষণে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দেশের নিরপেক্ষতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পার্লামেন্ট সদস্যদের বিপুল করতালির মাঝে প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে জানান, জিবুতির একটি ঘাঁটি থেকে আটটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ওই দুটি যুদ্ধবিমান গত ৪ থেকে ৮ মার্চের জন্য শ্রীলঙ্কায় আনার অনুমতি চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানানো হয়। কাকতালীয়ভাবে একই দিনে ভারত থেকে নৌ-মহড়া শেষে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে ৯ থেকে ১৩ মার্চের জন্য নিজেদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ নোঙর করার অনুরূপ একটি আবেদন করেছিল ইরানও। অনুরা কুমারা উল্লেখ করেন, যদি তারা ইরানকে অনুমতি দিতেন, তবে বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেও হ্যাঁ বলতে হতো। তাই কোনো পক্ষকেই সামরিক সুবিধা না দিয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নেয় কলম্বো।

শ্রীলঙ্কার এই নিরপেক্ষতা প্রমাণের ঠিক আগেই, গত ৪ মার্চ দেশটির দক্ষিণ উপকূলের অদূরেই ইরানের ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামের একটি ফ্রিগেটে টর্পেডো হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই হামলায় কমপক্ষে ৮৪ জন ইরানি নাবিক প্রাণ হারান এবং ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয় লঙ্কান নৌবাহিনী। পরদিন মানবিক ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরানের অপর একটি জাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহর’-এর ২১৯ জন ক্রুকে নিজেদের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয় শ্রীলঙ্কা, যারা বর্তমানে কলম্বোতেই আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে শ্রীলঙ্কার অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, সেখানে ইরানও লঙ্কান চায়ের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। এমন প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক ও ভারসাম্য বজায় রেখে চলার এক কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কলম্বো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category