• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

প্রকাশ্যে কূটনীতি, গোপনে উসকানি: ইরানে কঠোর হামলা চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে সৌদি যুবরাজের আহ্বান

Reporter Name / ১৬৬ Time View
Update : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা টানা ১৭ দিনে গড়িয়েছে (১৬ মার্চ পর্যন্ত)। প্রথমদিকে এই হামলার নেপথ্যে ঠিক কারা কাজ করছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, এবার বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ্যে কূটনীতির কথা বললেও গোপনে ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের দ্বিমুখী অবস্থান

চলতি মাসের শুরুতে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের প্রবল চাপেই মূলত ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • প্রকাশ্য অবস্থান: রয়টার্স জানিয়েছিল, সৌদি যুবরাজ প্রকাশ্যে সবসময় কূটনীতিকে সমর্থন করেছেন এবং বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, তেহরানে হামলার জন্য কোনোভাবেই সৌদি আরবের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

  • গোপন বার্তা: কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত ফোনালাপে যুবরাজ ভিন্ন সুর তুলেছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলার পদক্ষেপ না নেয়, তবে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।

নিউইয়র্ক টাইমসের বিস্ফোরক তথ্য

গত রোববার (১৫ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে।

  • হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিত আরব নেতাদের সঙ্গে, বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন।

  • এসব কথোপকথনে সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন যেন যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই পিছু না হটে এবং ইরানিদের ওপর এই কঠোর হামলা অব্যাহত রাখে।

ফিরে এলো পুরোনো রাজার কড়া পরামর্শ

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বর্তমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের করিডোরে সৌদি আরবের প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর একটি পুরোনো ও কড়া পরামর্শ বারবার আলোচিত হচ্ছে। আর সেটি হলো—”শত্রুর (ইরানের) মূল উৎস বা নেতাকে পুরোপুরি নির্মূল করে দেওয়া।”

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও, পর্দার আড়াল থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে বন্দুক রেখেই নিজেদের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে ঘায়েল করতে চাইছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category