যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো এক যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাইনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে চালানো এই প্রাণঘাতী হামলার বিষয়টি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। এক কড়া বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘আমেরিকান ও জায়নবাদীদের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাহিনীটি। ২০২৪ সাল থেকে আইআরজিসির মুখপাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন জেনারেল নাইনি। তবে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আকস্মিক এই মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও মার্কিন প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন জেনারেল নাইনি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে নাইনি বলেছিলেন, আমেরিকার যদি সৎসাহস থাকে, তবে তারা যেন উপসাগরীয় জলসীমায় নিজেদের জাহাজ পাঠিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করে। শুধু তাই নয়, শত্রুপক্ষের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মাঝেও তেহরান যে পুরোদমে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, সে কথাও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছিলেন এই সেনা কর্মকর্তা।
জেনারেল নাইনির এই হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গত কয়েকদিন ধরেই ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর আগে গত বুধবার এক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব। তার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার আলাদা দুটি হামলায় আইআরজিসির অধীনস্থ বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি এবং ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। সামরিক ও গোয়েন্দা শীর্ষ কর্তাদের এমন ধারাবাহিক মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।