মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধ এবার গুপ্তচরবৃত্তির নতুন এক মোড় নিয়েছে। ইসরায়েলের হয়ে কাজ করার এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচারের গুরুতর অভিযোগে উত্তর-পশ্চিম ইরানে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। চিরশত্রু ইসরায়েলকে সহায়তা করার অভিযোগে একসাথে এত বিপুল সংখ্যক গুপ্তচর বা তথ্য পাচারকারী আটকের ঘটনায় গোটা অঞ্চলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই গ্রেপ্তারের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের সরকারি কৌঁসুলি বা প্রসিকিউটর অফিসের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে তাসনিম জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থাপনার নিখুঁত অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে গোপন তথ্য সরবরাহ করা।
সরকারি কৌঁসুলির ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গুপ্তচর চক্রকে ‘জায়নবাদী শত্রুদের ভাড়াতে চর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ভাড়াতে নেটওয়ার্কটি ইরানের সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাচার করে আসছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং বিচারিক আদেশের মাধ্যমেই এই চক্রের ওপর সফল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন উভয় দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইসরায়েল এখন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অভিযানের নতুন একটি ধাপ শুরু করেছে। আর এই ধাপে তারা মূলত মাঠপর্যায়ের গুপ্তচরদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ইরানের নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকি ও স্থাপনাগুলোকে নিশানা করছে। নতুন এই গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়টার্সের সেই রিপোর্টেরই এক বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।