যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইরানের তেল দখল করাই তার বর্তমান প্রধান লক্ষ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।
খারগ দ্বীপ দখল ও মার্কিন কৌশল
সাক্ষাৎকারে খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কৌশলগত কারণে এটি শেষ পর্যন্ত করা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে; কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিভিন্ন বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি সাপেক্ষে মার্কিন বাহিনীকে ওই দ্বীপে বেশ কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে বলেও তিনি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প নির্দ্বিধায় বলেন, “সত্যি বলতে ইরানের তেল নেওয়াই আমার প্রধান কাজ।” তবে তার এই আগ্রাসী নীতি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অনেকের মধ্যে দ্বিমত ও প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেন।
ইরানের অর্থনীতিতে আঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যে সেনা বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার বহুমুখী সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য নতুন করে চরম উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সামরিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বা লাইফলাইন। কারণ, এই একটি দ্বীপ দিয়েই দেশটি তাদের মোট উৎপাদিত তেলের সিংহভাগ বিদেশে রপ্তানি করে থাকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইরানের জ্বালানি খাত এবং অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ও অকল্পনীয় ধাক্কা লাগবে।
এদিকে, নিজেদের এই কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে ও সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে। অঞ্চলে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও যুদ্ধজাহাজ ও সেনা পাঠানোর জোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে পেন্টাগন।