• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

সুয়েজ খাল অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি হুথিদের

Reporter Name / ৭৫ Time View
Update : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের জবাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান। এরই মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ২৯তম দিনে গড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যদি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তবে তেহরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। তাদের এই পদক্ষেপে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ সুয়েজ খাল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার মারাত্মক শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর তাদের হামলার মাত্রা আরও বাড়ায়, তবে হুথিরা কোনোভাবেই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এ বিষয়ে কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে বলেন, হুথিদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ বিশ্ববাণিজ্যের দ্বিতীয় একটি প্রধান নৌপথকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে। গত আড়াই বছরে হুথিরা তাদের সামরিক সক্ষমতার যে প্রমাণ দিয়েছে, তাতে তারা চাইলেই বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

অধ্যাপক এলমাসরি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এখন যদি সুয়েজ খালও বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি একই সঙ্গে দুটি প্রধান ‘চোকপয়েন্ট’ বা বাধাগ্রস্ত পয়েন্টের ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এই দুটি নৌপথ অপরিহার্য হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।

সামরিক দিক থেকে বিচার করলে, হুথিদের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন এই হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এলমাসরির মতে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত আধুনিক হলেও তা কোনোভাবেই ‘অভেদ্য’ নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের ছোড়া অসংখ্য মিসাইল ও রকেট ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এখন যদি ইসরায়েলকে ইয়েমেন থেকে ধেয়ে আসা মিসাইলগুলোও নতুন করে মোকাবিলা করতে হয়, তবে তাদের সামরিক পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে আরও জটিল হয়ে পড়বে।

তবে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসরায়েল হয়তো কিছুটা অদ্ভুতভাবেই হুথিদের এই আগ্রাসনকে স্বাগত জানাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এই যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন নিকট ভবিষ্যতে কোনোভাবেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে না পারেন। ইসরায়েলের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো এখনো পুরোপুরি অর্জিত না হওয়ায় তারা সংঘাত জিইয়ে রাখতেই বেশি আগ্রহী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে ইরান। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে যে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে, সুয়েজ খালে হুথিদের সম্ভাব্য অবরোধ সেই বৈশ্বিক সংকটকে এক অকল্পনীয় বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category