আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের শত্রুদের (যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল) আগ্রাসনে সহায়তা করে, তবে সেসব দেশকেও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য এবং বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এযেই এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মোহসেনি এযেই জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে যে, এই অঞ্চলের কিছু দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শত্রুপক্ষকে তাদের ভূমি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন:
“যেসব জায়গা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর রসদ বা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোকে আমরা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করব। নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সেসব স্থানে শক্তিশালী আক্রমণ চালাতে দ্বিধা করবে না।”
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট ও সরাসরি হুমকি। এর আগে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানালেও, আজ তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল যে— ‘নিরপেক্ষতার অভাব’ সহ্য করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই হুঁশিয়ারি মূলত তিনটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: ১. ভৌগোলিক নিরাপত্তা: মার্কিন বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোকে অকেজো করে দিতে ইরান কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। ২. প্রতিবেশীদের ওপর চাপ: ইরান চায় না তাদের পাশের দেশগুলো ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করুক। ৩. যুদ্ধ বিস্তৃতির ঝুঁকি: এই ঘোষণার ফলে ওমান, জর্ডান, কুয়েত বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো নতুন করে এক ভয়াবহ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়ল।
ইরানের এই হুমকির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন এক অস্থিরতার দিকে মোড় নিল। এতদিন যুদ্ধের আঁচ মূলত ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও, এখন তা আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়ার স্পষ্ট আলামত পাওয়া যাচ্ছে।