• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
মতুয়া চমক: ভোটের অংকে সংরক্ষিত আসনে এমপি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: ৫৬ হাজার কোটির দায় কেন জনগণের কাঁধে? লোগো নকল, দাম আকাশছোঁয়া: সংসদের কেনাকাটায় এ কোন জাদুকরি হিসাব? তীব্র গরমে হঠাৎ ঘাম বন্ধ? হিট স্ট্রোক নয় তো! অবশেষে বোনদের পথ ধরে হজে যাচ্ছেন চম্পা অনুমতি ছাড়া ভিডিও করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী ইরানের তেল বাণিজ্য সম্পূর্ণ অচল করার কড়ার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কি কৌশল না ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা ‘অবৈধ যুদ্ধ’ আড়াল করতেই হুমকি: ইরানি-মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি বিশ্বমঞ্চে ‘শান্তিদূত’ পাকিস্তান: আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার আড়ালে ধুঁকছে ঘরোয়া রাজনীতি

ইরানের শীর্ষ নেতা আলী লারিজানি নিহত

Reporter Name / ৫২ Time View
Update : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

ইসরায়েলের অতর্কিত বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান এবং দেশটির বর্তমান ডি-ফ্যাক্টো শীর্ষ নেতা আলী লারিজানি। গত মঙ্গলবার রাতে লারিজানিকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার খবর প্রথমে ইসরায়েল দাবি করলেও, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বুধবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান। তেহরানের এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক নতুন এবং অনিশ্চিত মোড় নিল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল লারিজানির শাহাদাতের বিষয়ে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করেছে। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরান এবং ইসলামী বিপ্লবের আদর্শকে সমুন্নত রাখার দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে আলী লারিজানি তার কাঙ্ক্ষিত শাহাদাত বরণ করেছেন। বিবৃতিতে লারিজানিকে একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করে তিনি সত্যের পথে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার এই চলে যাওয়া ইরানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হলেও বিপ্লবের আদর্শ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে ওই বার্তায়।

আলী লারিজানি কেবল জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধানই ছিলেন না, বরং সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, লারিজানিই কার্যত দেশটির শাসনভার ও যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জানা যায়, খামেনি তার মৃত্যুর আগে লারিজানিকেই তার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করে গিয়েছিলেন। তার নির্দেশেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, লারিজানিকে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো লক্ষ্যবস্তু করে আসছিল। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে লারিজানি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। তার মৃত্যুতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা আরও প্রকট হলো। বিশেষ করে যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে লারিজানির মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সামরিক কৌশলীকে হারানো তেহরানের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে লারিজানির মৃত্যুর পর ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইসরায়েলের এই সরাসরি আঘাতের জবাবে ইরান এখন কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ছায়া যুদ্ধকে সরাসরি এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপান্তর করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category